PM Modi: ‘সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে তৃণমূল সরকার’, রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে ফুঁসে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

PM Narendra Modi: রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আপনাকে শ্রদ্ধা করি। দেশের এক নম্বর চেয়ার আপনার। ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না। কত আদিবাসীর নাম কেটে দিয়েছে। জানেন আপনি?" মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা যখন সরব হলেন, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে 'অসম্মান' নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

PM Modi: সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে তৃণমূল সরকার, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান নিয়ে ফুঁসে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
তৃণমূল সরকারকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীImage Credit source: TV9 Bangla

Mar 07, 2026 | 10:41 PM

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: বাংলায় এসে নিজের অসন্তোষ চেপে রাখেননি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, “হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন।” শনিবার সন্ধেয় মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকেই যার জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার বাংলায় রাষ্ট্রপতির ‘অসম্মান’ নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূল সরকারকে নিশানা করলেন।

এদিন এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলায় লেখেন, “এটি লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।”

এরপরই মোদী লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এত হালকাভাবে দেখছে।” শেষে তিনি লেখেন, “রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”

আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এদিন শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সভা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এত চেয়ার ফাঁকা কেন? আমি বুঝতে পারছি কেউ বাধা দিচ্ছে।” এরপর শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর গিয়ে এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, “উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন। যে কারণে সভা করতে দিলেন না।”

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনাকে শ্রদ্ধা করি। দেশের এক নম্বর চেয়ার আপনার। ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না। কত আদিবাসীর নাম কেটে দিয়েছে। জানেন আপনি?” মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা যখন সরব হলেন, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূলকে তিনিও নিশানা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, লড়াইটা পশ্চিমবঙ্গের জনগণ বনাম বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই, এনআইএ, রাজ্যপাল, প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রপতিজি। যখন পুরো প্রতিষ্ঠান বাংলার বিরুদ্ধে, তখন বাংলা আরও শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।