
কলকাতা: ভোটগ্রহণ মিটতে না মিটতেই উত্তেজনা বেহালায়। ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণ পল্লিতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। আক্রান্ত একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় এই নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই এই হামলা চালিয়েছে। ইট, বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে তৃণমূলের লোকজনকে।
বুধবার দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এদিন ভোটগ্রহণ শেষে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী পার্টি অফিসে ছিলেন। হঠাৎই বিজেপির লোকজন তৃণমূল কর্মীদের উপর ইট বৃষ্টি শুরু করে। ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ও রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দাসকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর মাথা ফেটেছে। আরও কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হন। আহত অবস্থায় আহতদের বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কী বলছেন তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়?
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান রত্না চট্টোপাধ্যায়। বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী বলেন, “আজকে সারাদিন কোথাও কোনও গন্ডগোল হয়নি। শুধু ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট একটা ঘটনা ঘটেছিল। আমরা আমাদের ছেলেদের বলে দিয়েছিলাম, ওরা প্ররোচনা দেবে, তাতে যেন কেউ পা না দেয়।” তারপরও ভোটগ্রহণ শেষ হতেই মারধরের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, “ভোট শেষে বিজেপির ছেলেরা আমাদের একটা ছেলেকে মারছিল। অঞ্জনদা সেটা শুনে যান। অঞ্জনদা কিছু বলার আগেই মারধর শুরু করে। অঞ্জনদা-সহ পাঁচজনকে বেধড়ক মেরেছে। লাঠি, ইট দিয়ে মেরেছে। একজনের মাথায় একাধিক স্টিচ পড়েছে। হাত ভেঙে দিয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর। আমরা থানাকে জানিয়েছি। দু-একজনকে গ্রেফতার করেছে। সবাইকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত ছাড়ব না। এরা কখনও ক্ষমতায় এলে বাংলায় আমরা বাঁচতে পারব?” ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।