
কলকাতা: CEO দফতরের বাইরে অশান্তির ঘটনায় এবার মামলা রুজু হল। হেয়ারস্ট্রিট থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু। পুলিশ সূত্রে খবর, রাস্তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার সময় কাদের কাদের উপস্থিতি ছিল, তাঁদের কী ভূমিকা ছিল, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর এবং রাতের ঘটনার পর নতুন করে CEO দফতরের বাইরে ১৬৩ এর এলাকা বাড়ানো হয়েছে বলেই লালবাজার সূত্রে খবর।
নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা) জারি। এবার CEO দফতরের পশ্চিম দিকে রাস্তা ১৬৩ – র আওতায় আনা হয়েছে বলেই লালবাজার সূত্রে খবর। ফলে CEO দফতরের পশ্চিম দিকেও জমায়েত করার ক্ষেত্রে ১৬৩ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে রাজ্য CEO দফতরের বাইরে চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা বিপুল পরিমাণে ফর্ম ৬ সিইও দফতরে জমা দিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে ‘বহিরাগত’দের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এক দিনেই প্রায় ৩০,০০০ ফর্ম জমা পড়েছে। তৃণমূল সমর্থিত বিএলও এবং কর্মীরা সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেই সময় বিজেপি কর্মীরাও সেখানে পৌঁছলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জও করে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘ভোটার হাইজ্যাকিং’-এর চেষ্টা বলে অভিহিত করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে (CEC) চিঠি লিখেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, যে কেউ আবেদনপত্র জমা দিতেই পারেন, তবে ৩০ মার্চের পর জমা পড়া ফর্মগুলো এই আসন্ন ভোটের তালিকায় কার্যকর হবে না।