
কলকাতা: বাংলায় আসা পর্যবেক্ষকদের একাংশ বিজেপি ঘনিষ্ঠ। বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। সাংবাদিক বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও সাংসদ সায়নী ঘোষ। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পরামর্শেই পর্যবেক্ষকদের বাংলায় পাঠিয়েছে কমিশন। বনগাঁ থেকে বালিগঞ্জ, একাধিক আসনে পর্যবেক্ষকদের নিয়ে প্রশ্ন ব্রাত্য-সায়নীর। ব্রাত্যর খোঁচা, পরিস্থিতি এমন তৈরি হয়েছে, ২৯৪টি আসনে তিনিই প্রার্থী, এমনই বার্তা দিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার।
সাংবাদিক বৈঠকে ছবি দেখিয়ে ব্রাত্য বলেন, “কীভাবে জ্ঞানেশ কুমার, তাঁর বস অমিত শাহের পরামর্শে বেছে বেছে লোক পাঠাচ্ছে দেখুন, এগুলো তার জ্বলন্ত প্রমাণ।” চারজন আধিকারিকের ছবি দেখিয়ে তিনি সাংবাদিক বৈঠকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনেন। চার জন পর্যবেক্ষকের নাম ছবি দিয়ে পোস্টার তৈরি করে সাংবাদিক বৈঠকে করেন ব্রাত্য-সায়নী। ছবি নীচে ওঠা অভিযোগের ডিটেইলস, সঙ্গে লেখা ‘EXPOSE’
প্রথম: অজয় কাটেসারিয়া, বনগাঁ দক্ষিণের পর্যবেক্ষক
ব্রাত্যর দাবি, অজয় আগে মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের সময়ে ছাতনায় কালেক্টরেটের কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ একর সরকারি খাস জমি টেন্ডার ছাড়াই বিলিয়ে দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন মধ্যপ্রদেশ সরকার শিবরাজ সিং চৌহান তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। একটি কমিশন গঠন করা হয়। তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সরকার পরিবর্তন হয় মধ্যপ্রদেশে। শিবরাজ সিং চৌহান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে যান। পরবর্তীতে বিজেপি সরকার অজয়কে ক্লিন চিট দেন। ব্রাত্যর কথায়, “এক বিজেপি সরকার তাঁকে দুর্নীতির জন্য অভিযোগ করছে, আরেক বিজেপি সরকার তাঁকে ছাড় দিচ্ছে।”
দ্বিতীয়: ধীরজ কুমার, গাজোলের পর্যবেক্ষক
তৃণমূলের অভিযোগ, মহারাষ্ট্র সরকারে হেলথ কমিশনার হিসাবে কাজ করতেন। ৮ হাজার কোটি টাকার অ্যাম্বুলেন্সের টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ৮ দিনের মাথায় টেন্ডার ডাকা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, স্থানীয় নেতার আত্মীয়কে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছিল।
তৃতীয়: অজয় ডাকুয়া, মধ্যমগ্রামের পর্যবেক্ষক
ওড়িশায় CMO-তে সচিব হিসাবে কাজ করতেন অজয় ডাকুয়া। তিনি রাজনৈতিক অফিসের সঙ্গে মন্ত্রীর দফতের লিয়াজো হিসাবে কাজ করতেন বলে ব্রাত্য দাবি করেছেন।
চতুর্থ: গান্ধম চান্দ্রুদু, বালিগঞ্জের পর্যবেক্ষক
তৃণমূলের অভিযোগ, গান্ধমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, পণ, লেনদেন, হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে একটি পণ সংক্রান্ত মামলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির ঘনিষ্ঠ আমলা গান্ধম।