
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) স্নেহের কানন তিনি। মাঝে দূরত্ব তৈরি হলেও এখনও ভাইফোঁটায় দিদি-র কাছে ছুটে যান শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)। রাজ্যে পালাবাদলের পর যখন ডিম হামলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক, হাসপাতালে সেইসময় ছুটে গিয়েছিলেন একা শোভনই। কিন্তু, এখনও আট বছর আগের একটি ঘটনা ভুলতে পারেন না তিনি। যেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনকে বলেছিলেন, ‘মেয়রটা কবে ছাড়বি’? আজও সেই অভিমান রয়ে গিয়েছে মমতার স্নেহের কাননের মধ্যে। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে আবারও সেই অভিমানী সুর শোনা গেল শোভনের কণ্ঠে।
যদি শোভনকে কোনওদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মেয়র হওয়ার প্রস্তাব দেন, তাহলে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি? টিভি৯ বাংলার এই প্রশ্নের উত্তরে পুরনো আট বছর আগের সেই দিনের কথা স্মরণ করালেন শোভন। ২০১৮ সালে মেয়র পদ থেকে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। শোভনের দাবি, বিজয়া সম্মেলনীতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কাজের প্রশংসা করলেও, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তাঁকে মেয়র পদ ছাড়তে বলা হয়েছিল। বলেন, “সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ। আমি ইস্তফা দিয়েছি কবে, ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর। ১৭ অক্টোবর পুজো ছিল। ২১ বা ২২ অক্টোবর ভাসান হয়ে যাওয়ার পর বিজয়া দশমী হচ্ছে। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আমাকে বলছেন তোর জন্য আমার গর্ব হয়। কলকাতা শহরের যে সব প্রবাসী বাঙালি পুজোর সময় পাঁচ বা সাতবছর পরপর ফিরছে তাঁরা বলছিলেন কলকাতা দেখে আমরা চিনতে পারছি না।”
কিন্তু, এর একমাসের মধ্যেই শোভনকে মেয়র পদ ছাড়ার কথা বলেছিলেন মমতা। এই নিয়ে শোভন বলেন, “২২ নভেম্বর ঠিক এক মাস দুই দিনের মধ্যে বললেন ছাড়বি কবে? তাহলে সেদিনের প্রশংসাটা মন থেকে হয়েছিল নাকি এই মেয়রটা ইস্তফা দেবেন কবে, এটা মন থেকে হয়েছিল? কোনটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান? আমি কিন্তু কোনও ফেবিকল লাগিয়ে চেয়ারে বসিনি। ছাড়তে আমার সময় লাগেনি। আমি মেয়র অফ দ্য ডে। তাই ছেড়ে যেতে সমস্যা হয়নি। রাজনৈতিক জায়গা থেকে, প্রশাসনিক জায়গা থেকে ছেড়েছিলাম। কোনওদিন কর্পোরেশনে আর যায়নি। এরপর দেখলাম দলের সভা-সমিতিতেও আমি ব্রাত্য। আমার কোনও অভিযোগ নেই। ওপরওয়ালা আছে।” ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করে শোভন বলেন, “ববিকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ববি কেন, কে ববি?”