
কলকাতা: ভোটের মুখে পরপর ধাক্কা। খারিজ হয়ে গেল দুটি মামলা। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল। পরে আরও একটি মামলা হয়। আইনজীবী অর্ক কুমার নাগের করা সেই মামলা খারিজ হয়ে গিয়েছে। এই আবেদনের ক্ষেত্রে কোনও উপযুক্ত যুক্তি দেখানো সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করে মামলা দুটি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ।
রাজ্যে পরপর আইএএস, আইপিএস বদলিতে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলা মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ৪৬ জন অফিসার বদল করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এই আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। এই মামলায় সহমত হয় রাজ্য। পাশাপাশি বিডিও, আইসি এবং ওসি বদলি নিয়ে দায়ের হওয়া আরও একটি মামলাও খারিজ করল প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
কোন যুক্তিতে আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট
১. রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাকারী একজন আইনজীবী। এই মামলায় তাঁর কোনও স্বার্থ লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে হয়নি।
২. আদালতে তরফে আরও বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের বদলি করার সিদ্ধান্তকে ইচ্ছাকৃত, অযৌক্তিক বা দুরভিসন্ধিপূর্ণ বলে মনে করা যায় না, কারণ গোটা দেশে এমন অফিসার বদলির ঘটনা ঘটেছে একাধিক জায়গায়।
৩. হাইকোর্টের বক্তব্য, যদি দেখা যায় কোনও ক্ষমতা ছাড়াই প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে অথবা অবৈধভাবে করা হয়েছে, তাহলেই তাতে হস্তক্ষেপ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পায়নি আদালত।
৪. সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতে পারে, এমন কোনও বিষয় যতক্ষণ না হচ্ছে তাকে জনস্বার্থ মামলা বলা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের এই বদলি করার ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতার ব্যবহার কোনও যথেচ্ছ পদ্ধতিতে করা হয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে পারেনি মামলাকারী। ফলে জনস্বার্থের কোনও ক্ষতি হয়েছে বলা যাবে না।
৫. আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই রায়ের কারণে কোনও অফিসার যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তিনি আলাদা করে নিজেদের বদলি চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।