Calcutta High Court: এই মামলাটি আসলে ‘ছদ্মবেশ’, কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল কমিশনের
ভোট ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার সহ রাজ্য প্রশাসনের একাধিক আইএএস-আইপিএস-কে বদলি করা হয়েছে। রাত ১২টায় চিঠি দিয়ে মুখ্যসচিবের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, একাধিক আধিকারিককে ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে।

কলকাতা: আধিকারিক বদলির মামলায় নিজেদের অবস্থানে স্থির রইল নির্বাচন কমিশন। ‘কমিশন যদি মনে করে যে কোনও আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার যুক্ত থাকলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে তাহলে কমিশন সেই আধিকারিককে বদলি করতেই পারে। অথবা তাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে।’ কলকাতা হাইকোর্টে এমনই সওয়াল করলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু।
ভোট ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার সহ রাজ্য প্রশাসনের একাধিক আইএএস-আইপিএস-কে বদলি করা হয়েছে। রাত ১২টায় চিঠি দিয়ে মুখ্যসচিবের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, একাধিক আধিকারিককে ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।
কত আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে এবং কোথায় পাঠানো হয়েছে, বুধবার তার তালিকা কমিশনের কাছে চাইলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। কমিশনের দাবি, ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ। কেউ অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চালাচ্ছে।’ উল্লেখ্য, মামলাটি করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ।
তবে জনস্বার্থ মামলার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আইনসভা যে আইন তৈরি করে তার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে না কমিশন। কল্যাণ প্রশ্ন করেন, ‘যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, মর্জিমাফিক বদলি করা হয়, তাহলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু কীভাবে হবে?’
কমিশনের প্রতিটা পদক্ষেপ জনস্বার্থে হতে হবে এবং প্রতিটা পদক্ষেপ আদালত খতিয়ে দেখতে পারে বলে দাবি করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক সেই রাজ্য থেকেই নিতে হবে। অন্য রাজ্য থেকে নিতে হলে রাজ্যের সম্মতি লাগে।” তাঁর দাবি, ২০২৬-এ আমাদের রাজ্যে কোনও নিয়ম মানছে না কমিশন। রাজ্য থেকে সব আমলা নিয়ে চলে গেলে, রাজ্যটা চলবে কীভাবে? প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
লোকসভা নির্বাচনের সময় কি কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের পরিবর্তন করা হয়? এই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কাজে ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে বলে দাবি করে কল্যাণ বলেন, ‘৬ মে পর্যন্ত নির্বাচিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বে থাকবেন। তাঁর বিশ্বাসযোগ্য আধিকারিকদের ছাড়া তিনি কীভাবে কাজ করবেন? এটা ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা।’ আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
