
কলকাতা: সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনে এবার বড় দাবি ধৃতদের। ধৃত রাজু ঢালি ও তুফান থাপা দাবি করলেন, তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। বুধবার শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁদের বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আনা হলে, সংবাদমাধ্যমের কাছে রাজু ও তুফান দাবি করেন, তাঁরা স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ ফেলে আসেননি। কে ফেলেছেন জানতে চাওয়া হলে ইঙ্গিতবাহী উত্তর দেন তাঁরা।
গত ২৮ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালধার থেকে স্বপন কামিল্যা নামে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার দিলমাটিয়া গ্রামে। ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের। ঘটনার তদন্তে নেমে রাজু ঢালি ও তুফান থাপাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজগঞ্জের বিডিও কলকাতায় এলে রাজু তাঁর গাড়ি চালাতেন বলে জানা গিয়েছে। আর তুফান থাপার সঙ্গে প্রশান্ত বর্মণের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ওই ২ জনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি রাজগঞ্জের বিডিও।
এই পরিস্থিতিতে এদিন ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন ধৃত রাজু ও তুফান। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আনা হয়েছিল তাঁদের। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় ধৃতদের কাছে সাংবাদিকরা তাঁদের কাছে জানতে চান, কে খুন করেছেন? সেই প্রশ্ন শুনে রাজু ও তুফান বলেন, “যারা মার্ডার করেছে, তাদের কাছে যান। আমাদের কেন জিজ্ঞাসা করছেন বারবার। আমরা ড্রাইভার, আমরা সার্ভেন্ট। আমরা কারও না কারও সার্ভেন্ট।” তাহলে কি তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে? প্রশ্ন শুনেই তাঁরা বলেন, “অবশ্যই ফাঁসানো হচ্ছে।” কে ফাঁসাচ্ছে? তাঁদের জবাব, “আপনারা সব জানেন। তারপরও প্রশ্ন করছেন।”
খুনের ঘটনায় রাজগঞ্জের বিডিও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে স্বপন কামিল্যার পরিবারও। রাজগঞ্জের বিডিও স্বপন কামিল্যার মেদিনীপুরের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এবার ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করলেন ধৃত ২ জন। বর্তমানে এই খুনের ঘটনার তদন্তভার নিয়ে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ। রাজগঞ্জের বিডিও-র বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।