
কলকাতা: রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা, বাজেট পেশ করে মমতার সরকারকে নিশানা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের। বাংলায় পালাবদলের প্রথম বাজেট পেশ। রাজ্য সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে আশাকর্মী- প্রত্যেকেই সুখবর শুনিয়েছে নতুন সরকার। কিন্তু বাজেট পেশের আগেই পূর্বতন সরকারের তৈরি করা রাজ্যের বেহাল অর্থনৈতিক দশা নিয়ে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শাণালেন নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রথম বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিদায়ী সরকার বাংলাকে ঠিক কোন খাদের কিনারায় ফেলে গিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “নতুন সরকার পূর্বতন সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে মোট ৮,১৫,৬৯১ কোটি টাকার এক বিশাল ও পর্বতপ্রমাণ ঋণের বোঝা পেয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ রাজ্যের অর্থনীতিকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়ার শামিল।” তবে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে নতুন সরকার বদ্ধপরিকর। স্বপন দাশগুপ্ত আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তা এবং সুনির্দিষ্ট আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যকে আবার স্থায়ী অগ্রগতির পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হবে।
চলতি বাজেটে রাজ্যের রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনার এক আশাব্যঞ্জক রূপরেখাও তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আনুমানিক রাজস্ব ঘাটতি জিএসডিপির নিরিখে কমিয়ে ১.০২ শতাংশে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সংশোধিত হারে ছিল ২.০৭ শতাংশ। একইভাবে আর্থিক ঘাটতি ৩.৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে জিএসডিপির ২.৯১ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, জিএসডিপির নিরিখে সামগ্রিক ঋণের হারও ৩৮.২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭.৯৮ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, পূর্বতন সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাকে নতুন দিশা দেখ দেওয়াই এখন নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।