West Bengal Budget 2026 Opposition Reaction: ‘সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি’, বাজেটের প্রশংসা করেও কেন বললেন ঋতব্রত?
Ritabrata Bandyopadhyay on West Bengal Budget 2026: বাজেট নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিরোধী নই। কিন্তু, সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। ব্যবসার অনুকুল পরিবেশের নামে বেসরকারি সংস্থার মালিকরা যে লাভ সর্বোচ্চ করার চেষ্টা শুরু না করে। এটা দেখতে হবে সরকারকে। বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় আমাদের বিধায়করা এই নিয়ে বলবেন। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। গতবার কী বরাদ্দ ছিল, সেটা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।"

কলকাতা: বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট। সোমবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই বাজেট নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনার কোনও জায়গা পাবেন না। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে কার্যত সেই সুরই শোনা গেল। এদিন বাজেট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বললেন, “বিরোধী দলে রয়েছি মানেই সবটা বিরোধিতা করতে হবে, তেমনটা নয়।” তবে বাজেট সংখ্যালঘু দফতরে বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরের বিধানসভার চিফ হুইপ আখরুজ্জামান।
বাজেট নিয়ে কী বললেন ঋতব্রত?
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, “আমাদের ওভারঅল দেখে মনে হয়েছে, পরিকাঠামো নির্মাণের কথা সরকার বলেছে। তবে পরিকাঠামো নির্মাণে কত টাকা খরচ হবে কিংবা রোডম্যাপ কী হবে, সেটা পরিষ্কার নয় বলে আমাদের এক নজরে মনে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাজেটে বারবার ব্যবসার অনুকূল পরিবেশের কথা বলা হয়েছে। আমরা ব্যবসার অনুকূল পরিবেশের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু, ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ করতে গিয়ে যদি গোটাটাই বেসরকারি সেক্টরের হাতে চলে যায়। যাঁরা ব্যবসা করতে আসবেন, তাঁদের অনুকূল পরিবেশ দিতে গিয়ে যদি অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বেসরকারি সেক্টরের লাভ সর্বোচ্চ হবে। কিন্তু, সাধারণ জনগণের জন্য হিতকর হবে না।”
বাজেটের কিছু ঘোষণার প্রশংসা করে ঋতব্রত বলেন, “নতুন সরকার বাজেটে প্রস্তাব আকারে অনেক কিছু রেখেছে। একটা জিনিসকে স্বাগত জানাই। মদের দোকানের ক্ষেত্রে আগেও ১ কিলোমিটার (স্কুল, কলেজ, মন্দির থেকে) ছিল। কিন্তু, কোন কারণে তা ৫০০ মিটার হয়েছিল, সেই কারণে যাব না। তবে আবার ১ কিমি করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “পরিকাঠামো নির্মাণে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বেশি না হলে ততদিন পর্যন্ত রাজ্যে অর্থনীতির হাল ফিরবে না। একটা বড় ঘাটতির কথা তো বাজেটের প্রথমেই বলা হয়েছে। আবার আমি বলছি, আমরা ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিরোধী নই। কিন্তু, সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। ব্যবসার অনুকুল পরিবেশের নামে বেসরকারি সংস্থার মালিকরা যে লাভ সর্বোচ্চ করার চেষ্টা শুরু না করে। এটা দেখতে হবে সরকারকে। বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় আমাদের বিধায়করা এই নিয়ে বলবেন। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। গতবার কী বরাদ্দ ছিল, সেটা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।” এরপরই বাজেটের বিরোধিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বিরোধী দলে রয়েছি মানেই সবটা বিরোধিতা করতে হবে, তেমনটা নয়। ডিএ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানাতেই হবে। প্রশাসনিক বৈঠকে আমাদের বিধায়করা বেশ কিছু দাবি জানিয়েছিল। তার অনেকগুলি মানা হয়েছে।”
কী বললেন আখরুজ্জামান?
তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরের বিধানসভার চিফ হুইপ আখরুজ্জামান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আমাদের নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সভায় বলছেন, সবকা সাথ সবকা বিকাশ। কিন্তু, এই বাজেটে তার প্রতিফলন দেখলাম না। একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে প্রথম থেকেই অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে। সংখ্যালঘু দফতরের ক্ষেত্রে বাজেটে দেখলে দেখা যাবে, আগেরবার সংখ্যালঘু দফতরের ৫ হাজার কোটির টাকার উপর বরাদ্দ করা হয়েছিল। এদিন একনজরে বাজেট দেখে মনে হল, ওই দফতরে বরাদ্দ অর্ধেকের বেশি কমানো হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করেছে।”
