
কলকাতা: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। আর সেই দুর্গাপুজোয় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তৎপর রাজ্য সরকার। গতকাল চোরবাগানে দুর্ঘটনার পর পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, তার জন্য আরও বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিআইপি ব্যবস্থা থাকবে না। আর রবিবার সল্টলেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্র্যাফিক কন্টোল রুম আরক্ষা ভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর লালবাজারেও যান। এক্স হ্যান্ডলে সেকথা জানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন করেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তব্যরত পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করুন।’
এক্স হ্যান্ডলে কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
আরক্ষা ভবন ও লালবাজারে পরিস্থিতিতে খতিয়ে দেখার পর এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুস্থতা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পুজোর প্রধান মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আজ সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আমি একাধিক কেন্দ্রীয় মনিটরিং কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি।’
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুম আরক্ষা ভবনে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘রাজ্যজুড়ে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি পরিকাঠামো এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা।’
আরক্ষা ভবন থেকে কলকাতা পুলিশ কন্ট্রোল রুম লালবাজার যান শুভেন্দু অধিকারী। সেকথা উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ খতিয়ে দেখেছি। প্রধান পুজোমণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড়, যাতায়াতের পথ এবং ভিড়ের ঘনত্বের উপর নজরদারির ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছি।’
সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি লেখেন, ‘পরিস্থিতির উপর প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ নিরন্তর নজর রাখছে। প্রয়োজন অনুযায়ী রিয়েল টাইমে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে এবং দিনরাত নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তারা যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি কঠোরভাবে মেনে চলেন, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
সবশেষে পুজো কমিটি ও সাধারণ মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, ‘পুজো কমিটি ও দর্শনার্থীদের কাছে আমার আবেদন, নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তব্যরত পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করুন।’