
কলকাতা: বুধবার কালিয়াচকের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই একটি ভিডিয়ো ফুটেড ভাইরাল হয়। দেখা যায়, ভিড়ের মাঝে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বক্তৃতা দিচ্ছেন। সবাই তাঁর কথায় হাততালি দিচ্ছেন। অনেকেই মোবাইলে বন্দি করছেন ওই ব্যক্তির ভিডিয়ো। ঘটনার পর থেকে ওই ব্যক্তির আর কোনও খোঁজ ছিল না। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় সেই মোফাক্কেরুল ইসলামকে। পুলিশ জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ওই ব্যক্তি।
কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম?
পুলিশের দাবি, মোফাক্কেরুল ইসলামের উস্কানিতেই বুধবার বিচারকদের ঘেরাও করার ঘটনা ঘটে। কালিয়াচকের তিনটি মামলায় নাম রয়েছে ওই ব্যক্তির। ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল ইসলাম কেন মালদহে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২১-এ এআইএমআইএম-এর প্রার্থী হয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। তারপর আর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁকে সেভাবে দেখা যায়নি। এবার ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রার্থী নন মোফাক্কেরুল, তবে সেই মিম এবার আরও বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে মালদহে। সম্প্রতি রাজ্যে এসেছিলেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও। বৃহস্পতিবার কালিয়াচকের ঘটনার পর সভামঞ্চ থেকে মিমকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনীতির বাইরে মোফাক্কেরুল ইসলাম একজন আইনজীবী। আগে জেলা আদালতে প্র্যাকটিস করতেন। বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা লড়েন তিনি। জানা যায়, হাইকোর্টে এই আইনজীবীর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি নাকি হাইকোর্টে ঢুকলেই তাঁকে ঘিরে লোকজনের ভিড় জমে যায়। তাঁর বক্তব্যও নাকি শুনতে পছন্দ করেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর লক্ষ লক্ষ ভোটার রয়েছে। জেলায় তাঁর অনুগামীর অভাব নেই। ঘটনার দিনের ভিড় দেখলেও সে কথা স্পষ্ট হয়ে যায়।
শুক্রবার সকালে গ্রেফতার হওয়ার আগে নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন মোফাক্কেরুল ইসলাম। নিজের গ্রেফতারির কথা নিজেই জানান তিনি। তবে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে বোঝা যাবে, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন রাজ্যের ছবি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তিনি, যা দেখলে অনেকেই ভাববে যে তিনি ভিনরাজ্যে রয়েছেন। কখনও তেলেঙ্গনা, কখনও তামিলনাড়ু, কখনও পাঞ্জাবের আদালতের ছবি পোস্ট করেছেন। আবার ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, কেরল যাচ্ছেন। শুক্রবার সেই আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হল বাগডোগরা থেকে।