
কলকাতা: ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর শপথ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিয়েছেন, বেআইনি কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। বেআইনি নির্মাণ নিয়েও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। আর হাওড়ায় বেআইনি নির্মাণের ছবি খতিয়ে দেখতে নবান্নের ছাদে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নের ছাদ থেকে কী দেখলেন তিনি?
গত ১২ মে কলকাতার তিলজলায় একটি বহুতলে আগুন লাগার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেছিলেন, বহুতলটি বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে সেখানে পৌঁছে যায় বুলডোজার। তার বিরুদ্ধে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ, “ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ বেড়েই চলেছে। যেটা ধ্বংসাত্মক।”
কেন নবান্নের ছাদে উঠেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
কলকাতার তিলজলা, তপসিয়ার মতো হাওড়ার একাধিক জায়গায় বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সেই ছবি নিজে খতিয়ে দেখতেই নবান্নের ছাদে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। নবান্ন হাওড়ায় শিবপুর এলাকার মধ্যে পড়ে। গত ১৪ মে নবান্নের ছাদ থেকেই আশপাশের ছবি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, পরবর্তী ক্ষেত্রে হাওড়ার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকও করতে পারেন।
এদিকে, তিলজলাকাণ্ডের পরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে পুর এবং নগরোন্নয়ন দফতর। নির্দেশিকায় জানিয়েছে, অনুমোদিত নকশা ছাড়া কোনও নির্মাণ হলে অবিলম্বে আইনি নোটিস দিতে হবে। নতুন ভবন কিংবা ফ্ল্যাটের মিউটেশনের আগে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও নির্মাণকাজ শেষে শংসাপত্র (Completion Certificate) যাচাই বাধ্যতামূলক। আবাসিক ভবনের বেআইনি বাণিজ্যিক ব্যবহার রুখতেও কড়া নজরদারি চালাতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা পরিদর্শক দল কিংবা ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়।