
বাঙালির উৎসব মানেই পাতে এক থালা ধোঁয়া ওঠা পোলাও। তবে সব সময় সেই চেনা বাসন্তী পোলাও কি আর ভালো লাগে? স্বাদে একটু বদল আনতে এবং জিভকে নতুনত্ব দিতে আপনিও বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন এই ৩টি বিশেষ পোলাও। রেসিপিগুলো যেমন সহজ, তেমনই স্বাদে রাজকীয়।
রাজকীয় কাশ্মীরি পোলাও
ফলের মিষ্টত্ব আর ড্রাই ফ্রুটসের আভিজাত্য এই দুই মিলে কাশ্মীরি পোলাও এক কথায় অনন্য।
উপকরণ: বাসমতী চাল (৫০০ গ্রাম), ঘি (৪ টেবিল চামচ), কাজু, কিসমিস, আখরোট (১ কাপ), আপেল ও আঙুর কুচি (অল্প), জাফরান ভেজানো দুধ (আধ কাপ), তেজপাতা, এলাচ, লবঙ্গ এবং স্বাদমতো নুন ও চিনি।
প্রণালী: প্রথমে চাল ধুয়ে আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। কড়াইতে ঘি গরম করে তাতে সব ড্রাই ফ্রুটস হালকা করে ভেজে তুলে নিন। এবার ওই ঘিয়েই গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিয়ে চাল দিয়ে দিন। চাল ভাজা হলে পরিমাণমতো গরম জল ও নুন দিন। জল শুকিয়ে এলে জাফরান মেশানো দুধ, চিনি এবং ভাজা ড্রাই ফ্রুটস ও ফলের টুকরোগুলো ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে দমে রাখুন ৫ মিনিট। তৈরি আপনার সুগন্ধী কাশ্মীরি পোলাও।
সুগন্ধী মেথি মটর পোলাও
যারা খুব বেশি মিষ্টি পছন্দ করেন না, তাদের মেথি আর কড়াইশুঁটির এই যুগলবন্দি অসাধারণ খাবার।
উপকরণ: চাল (৩ কাপ), টাটকা মেথি পাতা কুচি (১ কাপ), কড়াইশুঁটি (আধ কাপ), আদা-রসুন বাটা (১ চামচ), পেঁয়াজ কুচি (১টি বড়), ঘি ও সাদা তেল, শাহী গরম মশলা।
প্রণালী: প্রথমে চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। হাঁড়িতে তেল ও ঘি গরম করে পেঁয়াজ কুচি লাল করে ভাজুন। এরপর আদা-রসুন বাটা ও মেথি পাতা দিয়ে ভালো করে কষান। কষানো হলে চাল ও কড়াইশুঁটি দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। এবার পরিমাণমতো গরম জল ও নুন দিয়ে ঢাকা দিন। জল টেনে এলে ওপর থেকে সামান্য গরম মশলা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। রায়তার সঙ্গে এটি দুর্দান্ত লাগবে।
পনির নবরত্ন পোলাও
রঙবেরঙের সবজি আর পনিরের টুকরো এই পোলাওকে দেখতে যেমন সুন্দর করে, খেতেও তেমনই সুস্বাদু।
উপকরণ: বাসমতী চাল, গাজর, বিনস, ফুলকপি (ছোট টুকরো করা), পনির কিউব (১০০ গ্রাম), কাজু-কিসমিস, ঘি, জিরে ফোড়ন ও সামান্য কেওড়া জল।
প্রণালী: পনিরের টুকরোগুলো হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। সব সবজিগুলোও ঘিয়ে সামান্য নুন দিয়ে ভেজে নিন। এবার আলাদা পাত্রে ঘি গরম করে জিরে ফোড়ন দিন এবং চাল দিয়ে ভাজুন। চাল ভাজা হলে ভাজা সবজি, পনির ও ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে দিন। পরিমাণমতো জল ও সামান্য চিনি দিয়ে ঢাকা দিন। রান্না শেষে এক ফোঁটা কেওড়া জল ছড়িয়ে দিলে রেস্তোরাঁর খাবারের সঙ্গে পার্থক্য বুঝতে পারবেন না।