Hair fall solution: চুলের মারাত্মক ক্ষতি করছে এসি! কীভাবে ধরে রাখবেন চুলের উজ্জ্বলতা?
Protect hair in AC: ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসির মধ্যে বসে থাকার অভ্যাস কীভাবে আপনার চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে এবং অজান্তেই বাড়িয়ে তুলছে চুল পড়ার সমস্যা? এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কীভাবে আপনার চুলের ক্ষতি করছে এবং শুষ্ক স্ক্যাল্প ও চুল পড়া রোধ করতে কী কী ঘরোয়া উপায় মেনে চলবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি (Air Conditioner) এখন আমাদের পরম বন্ধু। বাইরে পা দিলেই যেখানে গলদঘর্ম অবস্থা, সেখানে এসির ঠান্ডা হাওয়া নিমেষেই স্বস্তি দেয়। কিন্তু এই আরামের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক মস্ত বড় বিপদ। আপনি কি জানেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসির মধ্যে বসে থাকার অভ্যাস কীভাবে আপনার চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে এবং অজান্তেই বাড়িয়ে তুলছে চুল পড়ার সমস্যা? সরাসরি না হলেও, এসি পরোক্ষভাবে স্ক্যাল্পের এমন কিছু ক্ষতি করে, যা চুলের বারোটা বাজায়।
কীভাবে ক্ষতি হচ্ছে চুলের?
আর্দ্রতা কেড়ে নিচ্ছে এসির হাওয়া
এয়ার কন্ডিশনার মূলত ঘরের ভেতরের গরম বাতাস এবং আর্দ্রতা টেনে নিয়ে পরিবেশকে শুষ্ক করে তোলে। যখনই ঘরের ভেতরের আর্দ্রতার মাত্রা কমে যায়, তখনই মাথার ত্বক এবং চুল থেকে প্রাকৃতিক ময়েশ্চার দ্রুত বাষ্পীভূত হতে শুরু করে। এর ফলে স্ক্যাল্প ভীষণভাবে ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। এসিতে অনেকক্ষণ থাকলে হাত-পায়ের চামড়া যেমন শুকিয়ে যায়; ঠিক একই ঘটনা ঘটে মাথার ত্বকেও। আর্দ্রতাহীনতার কারণে চুলের ডগা ফেটে যায়, চুল তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও কোমলতা হারায় এবং মাঝখান থেকে ভেঙে যেতে শুরু করে। ফলে চুল লম্বা হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে।
শুষ্ক স্ক্যাল্প ও খুশকি
মাথার ত্বক হল চুলের ভিত্তি। সেটি যদি অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, তবে সেখানে চুলকানি ও চামড়া ওঠার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ২০১১ সালে ‘অ্যানালস অব ডার্মাটোলজি’ (Annals of Dermatology) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উল্লেখিত রয়েছে যে, চুল যখন অতিরিক্ত শুষ্ক এবং তাপমাত্রার তারতম্যের মুখোমুখি হয়, তখন চুলের কিউটিকল বা বাইরের স্তর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, খসখসে ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এই শুষ্কতার কারণে খুশকির সমস্যা আরও মারাত্মক রূপ নেয়। খুশকি বাড়লে মাথার ত্বকে প্রদাহ তৈরি হয়, যা চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়। ফলস্বরূপ, চিরুনি চালালেই গোছা গোছা চুল হাতে চলে আসে।
বাঁচার উপায় কী?
ঠান্ডা ঘরেও যদি চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে চান, তবে লাইফস্টাইলে কিছু ছোট বদল আনা জরুরি:
- তেল মালিশ: শ্যাম্পু করার আগে নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল বা রোজমেরি অয়েল দিয়ে স্ক্যাল্প ভালো করে মাসাজ করুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগাবে।
- হাইড্রেটিং শ্যাম্পুর ব্যবহার: এমন শ্যাম্পু বেছে নিন যাতে সেরামাইড, গ্লিসারিন বা শিয়া বাটার রয়েছে। কড়া শ্যাম্পু একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
- হেয়ার মাস্ক: সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে ডিপ-কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। মধু বা অ্যাভোকাডো সমৃদ্ধ মাস্ক এসির কারণে হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনবে।
- সরাসরি হাওয়া এড়িয়ে চলুন: এসির ভেন্টের একদম সামনে বা নিচে সোজা হয়ে বসবেন না।
- ভেতর থেকে আর্দ্রতা: শুধু বাইরে থেকে যত্ন নয়, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর জল খান। ডায়েটে রাখুন শশা, তরমুজ ও ডাবের জলের মতো ফল ও পানীয়।
এসি হয়তো বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে একটু সচেতন হলেই এসি-র ঠান্ডা উপভোগ করার পাশাপাশি চুলকেও রাখা যায় রেশমের মতো নরম ও মজবুত।
