
ব্রণর সমস্যায় যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁরাই জানেন যে ঠিক কতটা যন্ত্রণাদায়ক। যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা সবচাইতে বেশি। এছাড়াও যাঁরা পিসিওএসের সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও হরমোনের ভারসাম্য জনিত সমস্যা থেকেও হতে পারে ব্রণ। তাই ব্রণ সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্ন আর উত্তর থাকল আপনাদের জন্য।
প্রশ্ন- প্রায় ৭ বছর হল পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যায় ভুগছি। যতদিন পিসিওডি ততদিনই রয়েছে ব্রণর সমস্যা। কিছুতেই সারছেনা। এমনকী খুঁটলে কালো দাগ হয়ে যাচ্ছে। মুখে কোনও রকম মেকআপও করা যায় না। কী করব?
উত্তর- পিসিওডি যেহেতু হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হয় সেক্ষেত্রে ব্রণর সমস্যা হওয়া খুব স্বাভাবিক। অনেকেই ভোগেন এই সমস্যায়। এই ব্রণকে অ্যাডাল্ট ব্রণ বলা হয়। ব্রণর যদি খুব বাড়াবাড়ি হয় তাহলে আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সেই সঙ্গে তেল-মশলা-মিষ্টি এসব একেবারেই বাদ রাখতে হবে রোজকারের তালিকা থেকে। দুগ্ধজাত খাবার একেবারেই বাদ দিতে হবে। বাইরে বেরোলে সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করবেন। তবে তা যেন জেল বেসড হয়। সেই সঙ্গে ওজন কমাতেই হবে। ওজন না কমালে পিসিওএস আর ব্রণ কোনওটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এছাড়াও নিয়ম করে শরীরচর্চা জরুরি।
প্রশ্ন- ছেলের বয়স ১৪। কয়েক মাস ধরে ভীষণ ব্রণর সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে গলায়, ঘাড়ে। সঙ্গে খুশকিও হচ্ছে। কী নিয়ম মেনে চললে উপকার পাবে?
উত্তর– এই বয়সে অনেকেরই ব্রণর সমস্যা হয়। তাই প্রথমেই তেল খাওয়া এবং তেল মাখা বন্ধ করতে হবে। মুখে কোনও ভাবেই তেল বা ক্রিম লাগানো যাবে না। বাইরে বেরোলেই সানস্ক্রিন মাখুন। পাউডার বা জেল বেসড হলে সবচাইতে ভাল। রোজ মাথায় মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। মাথা যাতে নোংরা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। তেল,মশলা, দুধ এসব একেবারেই খাওয়া চলবে না। ত্বকে ভেষজ ছাড়া অন্য কোনও কিছু ব্যবহার করবেন না।
প্রশ্ন- রোজ ভাল করে মুখ ধুই। মুখে নিয়ম করে স্ক্রাবিংও করি। তারপরেও কমছে না ব্রণ। করণীয় কি?
উত্তর– এখানেই ভুল করছেন। রোজ পরিষ্কার জলে মুখ ধুয়ে নিন। কেমিক্যাল ফ্রি ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। কোনও রকম প্রসাধনী চলবে না। অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মুখে তেল লাগাবেন না।
প্রশ্ন- আমার ওজন তুলনায় বেশি। ওজন বাড়তেি বেড়েছে ব্রণর সমস্যা। খুঁটে দিলেই তা কালো হয়ে যাচ্ছে। কী করব?
উত্তর- প্রথমেই ওজন কমাতে হবে। ওজন না কমালে কোনও সমস্যারই সমাধান হবে না। তেল, মশলা, দুধ এসব পরিমাণে খেতে হবে। মুখে কোনও রকম রাসায়নিক ব্যবহার করা চলবে না। ওজন কমাতেই হবে। সঙ্গে ভেষজ ফেসওয়াশ, সাবান ব্যবহার করুন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। অন্যের ক্রিম, তোয়ালে ব্যবহার করবেন না।