Skin Care: ত্বকের লাল হয়ে ফুলে যাওয়া আমবাতের কারণে হচ্ছে না তো? এই আয়ুর্বেদিক উপায়গুলো জেনে নিন…
ঘন ঘন ত্বকে লাল দাগ হচ্ছে বা ফুলে যাচ্ছে? আপনার ব্যবহার করা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টগুলোও এর জন্য দায়ী হতে পারে। এই আয়ুর্বেদিক উপায়গুলো জেনে নিন...

চামড়ার লাল হয়ে ফুলে যাওয়া আমবাতের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এতে চামড়া খুব বেশি পরিমাণে চুলকোতে থাকে। চামড়ার ফুসকুড়ি এই ধরনের এলার্জির প্রতিক্রিয়া হিসেবে ট্রিগার হতে পারে। অ্যালার্জির কারণে দেহ হিস্টামিন নামক একটি প্রোটিন নিঃসরণ করে। যখন এটি নিসৃত হয়, শরীরের ক্যাপিলারি হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলি কিছু কিছু তরল পদার্থ বের করে দেয়। ত্বকে এই ধরনের তরল জমা হয় এবং ফুসকুড়ির সৃষ্টি করে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডঃ দিশা ভাবসার বলেছেন, ‘আয়ুর্বেদে ‘শীতাপিত্তা’ নামের একটা অবস্থার কথা বলা হয়। যা অনেকটা আমবাতের মতোই।’
‘শীতাপিত্তা’ দুটি শব্দ থেকে তৈরি হয়েছে। ‘শীতা’ মানে ঠান্ডা এবং ‘পিত্তা’ মানে উষ্ণতা। এই অ্যালার্জি খুব বেশি ঠান্ডার সংস্পর্শে আসার কারণে হয়। এই ঠাণ্ডা আমাদের দেহের উষ্ণতাকে প্রভাবিত করে। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে রোগীর শরীরের একটি অংশে কিংবা সারা শরীর জুড়ে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের মতে, এর লক্ষণগুলির মধ্যে:
*চুলকানি
*প্রিক্সিং সেনসেশন
*বমি বমি ভাব এবং জ্বর
*অতিরিক্ত তৃষ্ণা
*জ্বালা জ্বালা ভাব

তিনি ত্বকের ফুসকুড়ির সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন:
*এলার্জি
*দুর্বল হজম
*ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
*অতিরিক্ত লবণাক্ত, মশলাযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া
*দিনের বেলা ঘুমানো বা রাতে দেরী করে ঘুমানো
*ঠান্ডা খাবার খাওয়া, ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকা, ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসা
চিকিৎসা:
দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য, মশলাযুক্ত, টক বা লবণাক্ত খাবার, মাছ এবং অন্যান্য নন-ভেজ খাদ্য সামগ্রী, চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বা অ্যালকোহল জাতীয় কিছু খাবার এড়িয়ে গেলে ত্বকের এই অবস্থা নিরাময় করা সম্ভব। ঠান্ডা জল এবং সফট ড্রিঙ্কসের ব্যবহার বা ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসা এড়ানো উচিত বলেই জানিয়েছেন ডঃ ভাবসার।
আমবাত নিরাময়ের জন্য উপকারী ওষধি:
* হলুদ, আমলা, নিম ইত্যাদি এই অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দূর করতে কার্যকর
* নিরাময়ের জন্য গরম জলে নিম পাতা ডুবিয়ে দিয়ে স্নান করতে পারেন
*সারা শরীরে নারকেল তেল বা সরিষার তেল লাগান
*যদি আমবাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আয়ুর্বেদিক ওষধিতে সারছে না বলে মনে হয়, তাহলে পঞ্চ-কর্মের রাস্তা নেওয়াই একমাত্র উপায়।
“এখানে উল্লেখিত কোন নিরাময়ের চেষ্টা করার আগে সব সময় একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। কারণ, সবার ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা হয় না।
আরও পড়ুন: Orange Peel: কমলালেবুর খোসা খাওয়া কি সুরক্ষিত? জানুন এর উপকারিতা!
আরও পড়ুন: Hair Growth: ১ সপ্তাহের মধ্যে চুল বৃদ্ধির জন্য এই দুরন্ত ঘরোয়া উপাদান দিয়ে বানান হেয়ার প্যাক!
আরও পড়ুন: Hair Fall Prevention: চুল পড়া আটকাতে চান? তাহলে চুলকে এই উপায়ে বেঁধে রাখা শুরু করুন…
