Black Salt: জানেন বিট নুন খেলে শরীরে কী কী ঘটে?
Black Salt Health Effects: জানেন বিট নুন খেলে শরীরে কী কী ঘটে?খাওয়াদাওয়ার একটু অনিয়ম হলেই বাঙালির গ্যাস-অম্বল হওয়াটা অত্যন্ত চেনা ছবি। বিট নুনের সবচেয়ে বড় কার্যকারিতা লুকিয়ে আছে এখানেই। এটি লিভার বা যকৃতকে উদ্দীপিত করে পিত্তরস (Bile) উৎপাদনে সাহায্য করে, যা খাবারকে দ্রুত হজম করায়।

রসনা তৃপ্তিতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। আর সেই স্বাদে একটু বাড়তি টুইস্ট আনতে বিট নুনের ব্যবহার বেশ পুরনো। তবে সাম্প্রতিককালে স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে সাধারণ সাদা নুন বাদ দিয়ে বিট নুন বা সন্দক নুন খাওয়ার এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত বিট নুন খেলে আমাদের শরীরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটে? এটি কি আসলেই সাধারণ নুনের চেয়ে বেশি উপকারী, নাকি এর পেছনে কোনও লুকিয়ে থাকা বিপদও আছে?
খাওয়াদাওয়ার একটু অনিয়ম হলেই বাঙালির গ্যাস-অম্বল হওয়াটা অত্যন্ত চেনা ছবি। বিট নুনের সবচেয়ে বড় কার্যকারিতা লুকিয়ে আছে এখানেই। এটি লিভার বা যকৃতকে উদ্দীপিত করে পিত্তরস (Bile) উৎপাদনে সাহায্য করে, যা খাবারকে দ্রুত হজম করায়। ভারী খাবার খাওয়ার পর বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপার সমস্যা হলে এক গ্লাস হালকা গরম জলে সামান্য বিট নুন ও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ওষুধের চেয়েও দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
সাধারণ সাদা নুন অতিরিক্ত মাত্রায় পরিশোধিত (Refined) হয় এবং এতে সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে অত্যন্ত বেশি, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, বিট নুনে প্রাকৃতিকভাবেই সোডিয়ামের মাত্রা কিছুটা কম থাকে এবং এটি কোনো রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় না। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীরা পরিমিত পরিমাণে সাধারণ নুনের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা পান।
অনেকেরই রাতে ঘুমানোর সময় বা হঠাৎ হাঁটার সময় পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে। শরীরে পটাশিয়াম এবং ইলেক্ট্রোলাইটসের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে এমনটা হয়। বিট নুনে পটাশিয়ামের মতো জরুরি খনিজ উপাদান থাকে, যা পেশির তরল ভারসাম্য বজায় রাখে এবং এই যন্ত্রণাদায়ক ক্র্যাম্পের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বিট নুনে এক ধরণের হালকা রেচক বা ল্যাক্সেটিভ (Laxative) গুণ রয়েছে। এটি অন্ত্রের কার্যকারিতাকে সচল রাখতে এবং মল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। নিয়মিত সকালে অল্প বিট নুন মিশ্রিত জল পানের অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
বিট নুনে থাকা প্রাকৃতিক খনিজগুলো শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। রক্ত পরিশ্রুত হওয়ার কারণে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয় এবং ব্রণর সমস্যাও অনেকটাই কমে যায়।
যেকোনও উপকারী জিনিসেরই অতিরিক্ত ব্যবহার উপকারের চেয়ে অপকার বেশি করে। চিকিৎসকদের মতে, সম্পূর্ণভাবে সাদা নুন বন্ধ করে শুধু বিট নুন খাওয়া ডেকে আনতে পারে নতুন বিপদ। সাধারণ নুনের মতো বিট নুনে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়োডিন থাকে না। তাই শুধু বিট নুন খেলে শরীরে আয়োডিনের তীব্র অভাব দেখা দিতে পারে, যা থাইরয়েডের সমস্যা তৈরি করে। বিট নুনে বিভিন্ন ধরণের খনিজ উপাদান থাকে। মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে এই খনিজগুলো ফিল্টার করতে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সোডিয়াম কম থাকলেও বিট নুন একেবারে সোডিয়াম-মুক্ত নয়। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এটিও হার্টের ক্ষতি করতে পারে।
