Dandruff control: খুশকি আর চুল পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই মিলছেই না! এই ভুল করছেন না তো?
Hair fall solution: মাথায় খুশকি আর চিরুনি চালালেই মুঠো মুঠো চুল উঠে আসার সমস্যা? ভয় পেয়ে ভাবছেন খুশকিই বুঝি আপনার সব চুল কেড়ে মাথা ফাঁকা করে দিচ্ছে? চুল পড়ার আসল কারণ ও মারাত্মক ভুলের কথা তুলে ধরলেন অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞ। টাক পড়ার আগেই স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে জেনে নিন ডাক্তার কী বলছেন?

খুশকি ও চুল পড়া (Dandruff and Hair Fall) সমস্যা যাঁদের একসঙ্গে শুরু হয়েছে, তাঁদের অবস্থা এখন সত্যিই তথৈবচ! সকালে ঘুম থেকে উঠে বালিশের দিকে তাকালে বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে। একপাশে বালিশজুড়ে পড়ে থাকা একরাশ চুল দেখে মনে হয়, এভাবে চললে ক’দিন পর আর মাথায় চিরুনি ছোঁয়াতে হবে না, আয়নায় চকচকে চাঁদ দেখতে পাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা! আর অন্যপাশে যেন পাহাড়ি বরফের মতো ছড়িয়ে আছে সাদা সাদা খুশকির আস্তরণ। পছন্দের কালো জামা পরার তো উপায়ই নেই, একটু মাথা নাড়লেই কাঁধের ওপর চালের গুঁড়োর মতো খুশকি ঝরে পড়ে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এই জোড়া ধাক্কায় বেশিরভাগ মানুষই ধরে নেন যে খুশকিই বুঝি সব চুল গায়েব করার একমাত্র খলনায়ক।
তবে কৈলাশ দীপক হাসপাতালের ত্বক বিশেষজ্ঞ ড. আরজু পাহওয়া জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতিতে হাত-পা ঠান্ডা করে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেকে ভাবেন খুশকি সরাসরি চুলের শ্বাসরোধ করে সব ঝরিয়ে দেয়, কিন্তু আসল বিষয়টা আলাদা।
চুল পড়ার আসল কারণ কী?
- নখের অবিরাম আক্রমণ: মাথায় খুশকি জমলে এমন চুলকানি শুরু হয় যে হাত আর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তখন আমরা আয়েশ করে নখ দিয়ে জোরে জোরে মাথা চুলকাতে থাকি।
- চুলের গোড়ায় চোট: এই নখের আঁচড়ে মাথার সংবেদনশীল ত্বক ছড়ে গিয়ে ভেতরে ক্ষত ও জ্বালা তৈরি হয়। ফলে চুলের গোড়াগুলো আলগা হয়ে একদম নড়বড়ে হয়ে যায় এবং সামান্য আঙুলের ছোঁয়াতেই মুঠো মুঠো চুল ঝরে পড়ে।
সাধারণ খুশকি নাকি চর্মরোগ?
যেটাকে আপনি সাদা চোখে সাধারণ খুশকি ভাবছেন, সেটা আসলে অন্য কোনও কঠিন সমস্যাও হতে পারে:
- সেবোরিক ডার্মাটাইটিস: স্ক্যাল্প অতিরিক্ত তেলতেলে ও চটচটে হয়ে যায় এবং হলদেটে চামড়ার স্তর উঠতে থাকে।
- সোরায়সিস ও একজিমা: এই ধরনের ত্বকের সমস্যায় মাথার ত্বক অসম্ভব খসখসে হয়ে লালচে ছোপ দেখা দেয়।
- ফাঙ্গাল ইনফেকশন: ছত্রাকের সংক্রমণের ফলেও মাথার ত্বকে মারাত্মক চুলকানি হয় এবং চুলের শিকড় দুর্বল হতে শুরু করে।
কীভাবে এই বিপদ সামলাবেন?
- সঠিক শ্যাম্পু বাছুন: হালকা খুশকির জন্য জিংক বা সেলেনিয়ামযুক্ত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু কাজে দেবে। তবে ছত্রাকের উপদ্রব থাকলে কেটোকোনাজোল জাতীয় শ্যাম্পু দরকার।
- নিয়ম মেনে ব্যবহার: শ্যাম্পু মেখেই চটপট জল ঢাললে কোনও উপকার মিলবে না। অন্তত ৩ থেকে ৫ মিনিট মাথায় ভালো করে লাগিয়ে রাখুন, যাতে ওষুধটা ত্বকের গভীরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়। তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন:
- চুলকানির চোটে নখ দিয়ে মাথার চামড়া একদম খামচাবেন না।
- ভেজা অবস্থায় চুল খুব জোরে টেনে আঁচড়ানো বা শক্ত করে টেনে বাঁধা বন্ধ করুন। এতে নড়বড়ে চুলগুলো এক টানে উঠে চলে আসে।
- খুশকি কমে যাওয়ার পরেও যদি দেখেন একই হারে চুল ঝরেই চলেছে, তবে আর ঘরোয়া টোটকার ভরসায় না থেকে সরাসরি কোনও অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
