
নখখাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। কখনও অবসরে, কখনও আবার প্রবল দুশ্চিন্তায় অজান্তেই আঙুল চলে যায় মুখে। শুধু ছোটদের নয়, রাস্তাঘাটে বাড়ি বা অফিস সব জায়গাতেই বড়দেরও এই অভ্যাস চোখে পড়ে। সাধারণের চোখে এটি কেবলই একটি ‘বদভ্যাস’ বা ছোটবেলার চঞ্চলতা মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘ডার্মাটোফেজিয়া’ (Dermatophagia)। আর এই সাধারণ অভ্যাসটিই যে আপনার শরীরের স্থায়ী পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা হয়তো অনেকেরই কল্পনার বাইরে।
এই অভ্যাস এক ধরনের ‘বডি-ফোকাসড রিপিটেটিভ বিহেভিয়ার’ (BFRB)। সহজ কথায়, যখন কোনও মানুষ প্রবল মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যান, তখন মস্তিষ্ককে শান্ত করতে তিনি নিজের নখ কিংবা আঙুলের চারপাশের চামড়া কামড়াতে শুরু করেন। চিকিৎসকরা একে এক ধরনের ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা ওসিডির পর্যায়ে ফেলছেন।
কেন এটি বিপজ্জনক?
তথ্য বলছে, ক্রমাগত নখ এবং চামড়া কামড়াতে থাকলে একসময় আঙুলের ‘নেল বেড’ (Nail Bed) পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এই নেল বেড হল নখের নিচের সেই নরম অংশ যা নখকে বাড়তে সাহায্য করে। এটি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে নখ আর স্বাভাবিকভাবে বাড়ে না, বরং ত্বকের গভীরে বসে গিয়ে অসহ্য যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।
এখানেই শেষ নয়, আরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এই অভ্যাসে। মুখে থাকা লালা এবং আঙুলের নখের কোণে জমে থাকা অজস্র ব্যাকটেরিয়া এই কামড়ানোর ফলে তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র ক্ষত দিয়ে সরাসরি রক্তে মিশে যায়। এর ফলে ‘প্যারোনিচিয়া’ বা নখের কোণে পুঁজ জমে যাওয়ার মতো সংক্রমণ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এই সংক্রমণ যদি হাড়ের গভীর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে সেখানে পচন ধরা বা ‘গ্যাংগ্রিন’ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। আর পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে আক্রান্ত আঙুলটি কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় অবশিষ্ট থাকে না।
মুক্তির পথ কী?
কেন আপনি নখ কামড়াচ্ছেন সেই মানসিক কারণটি খুঁজে বের করুন। নিয়মিত প্রাণায়াম বা শরীরচর্চা করলে মন শান্ত থাকে।
নখ সবসময় খুব ছোট করে ছেঁটে রাখুন। নখের ডগায় তেতো স্বাদের নিরাপদ কোনও প্রলেপ মাখিয়ে রাখতে পারেন যাতে মুখে দিলেই বিরক্তি আসে।
সমস্যা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে দেরি না করে এক জন থেরাপিস্ট বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।