নামীদামি সুগন্ধি নয়! এই টোটকাতেই উবে যাবে ‘গা ঘিনঘিনে’ দুর্গন্ধ

ফিটকিরি ব্যবহার করা বেশ সহজ। প্রতিদিন স্নান করার সময় এক বালতি জলে কয়েক টুকরো ফিটকিরি ফেলে দিন। সেটা পুরোপুরি গুলে গেলে ওই জল দিয়েই শেষবার গা ধুয়ে নিন। তবে শরীরের বিশেষ কিছু অংশ, যেমন—বগল, ঘাড় কিংবা পায়ের পাতায় যেখানে ঘাম বেশি হয়, সেখানে ফিটকিরি ভেজানো জল দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করবেন। দেখবেন, কয়েক দিনেই ম্যাজিক টের পাচ্ছেন।

নামীদামি সুগন্ধি নয়! এই টোটকাতেই উবে যাবে ‘গা ঘিনঘিনে’ দুর্গন্ধ

Apr 01, 2026 | 6:46 PM

গরমকাল আসতেই লোকাল ট্রেন হোক বা অফিসের লিফট ঘামের গন্ধে নাক কুঁচকে ওঠা এখন রোজকার ঘটনা। ঘাম আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আসা সেই বিদঘুটে দুর্গন্ধ! এই সমস্যা মেটাতে অনেকেই অনেক কিছু করেন। নামীদামি ডিওডোরেন্ট থেকে শুরু করে বিদেশি পারফিউম, পকেট খালি করে সবই ট্রাই করা শেষ। কিন্তু ফল সেই ‘শূন্য’। কিছুক্ষণ পরেই সুগন্ধি উবে গিয়ে ফিরে আসে সেই ঘামের গন্ধ। অথচ আপনার রান্নাঘরের কোণেই লুকিয়ে রয়েছে এমন এক অব্যর্থ দাওয়াই, যার কথা জানলে অবাক হবেন। স্রেফ এক টুকরো সাদা ‘ফিটকিরি’ বা ‘অ্যালাম’ পারে আপনার এই বিড়ম্বনা থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে।

বাজারচলতি ডিওডোরেন্ট বা কোলনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক থাকে। এগুলো ঘাম আটকানোর চেষ্টা করলেও ত্বকের ক্ষতি করে। অন্যদিকে ফিটকিরি হল এক্কেবারে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। আয়ুর্বেদ থেকে আধুনিক বিশেষজ্ঞ সকলেরই মতে ঘাম নিজে দুর্গন্ধ ছড়ায় না। আসলে ঘাম যখন শরীরের ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে, তখনই সেই বিকট গন্ধ তৈরি হয়। ফিটকিরি সেই ব্যাকটেরিয়াদেরই বংশ নির্বংশ করে দেয়। ফলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর সুযোগই পায় না।

ফিটকিরি ব্যবহার করা বেশ সহজ। প্রতিদিন স্নান করার সময় এক বালতি জলে কয়েক টুকরো ফিটকিরি ফেলে দিন। সেটা পুরোপুরি গুলে গেলে ওই জল দিয়েই শেষবার গা ধুয়ে নিন। তবে শরীরের বিশেষ কিছু অংশ, যেমন—বগল, ঘাড় কিংবা পায়ের পাতায় যেখানে ঘাম বেশি হয়, সেখানে ফিটকিরি ভেজানো জল দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করবেন। দেখবেন, কয়েক দিনেই ম্যাজিক টের পাচ্ছেন। তবে বিজ্ঞান বলছে, ফিটকিরি ত্বকের লোমকূপগুলোকে কিছুটা সংকুচিত করে দেয় , যা ঘাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, এটি ঘাম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় না, শুধু গন্ধ আর অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

জলে খুব বেশি ফিটকিরি দেবেন না, তাতে ত্বক অতিরিক্ত খসখসে বা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

যদি আপনার স্কিন খুব সেনসিটিভ হয়, তবে আগে শরীরের ছোট কোনও অংশে লাগিয়ে দেখে নিন র‍্যাশ বেরোচ্ছে কি না।

যদি দেখেন কোনও ঘরোয়া টোটকাতেই ঘাম কমছে না, বরং অস্বাভাবিক ঘাম হচ্ছে (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে হাইপারহাইড্রোসিস বলে), তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

 

Follow Us