
মশলা বাটার জন্য যে এরকম মেশিন হতে পারে আজ থেকে ৫০ বছর আগে মানুষ ভাবতেই পারত না। মশলা বাটার কাজটিও ছিল রীতিমতো পরিশ্রম সাধ্য। রীতিমতো কষ্ট করেই শিলে মশলা পিষতেন বাড়ির মহিলারা।

পুরুষদের অবশ্য এই কাজে খুব একটা দেখা যায়নি। শিল কাটার জন্য দুপুরে পাড়ায় পাড়ায় আসত শিল কাটারিরা। তাদের শিল কাটবে- এই ডাকটিও ছিল খুব মধুর। শিলে বাটা মশলা দিয়েই বানানো হত রকমারি সব রান্না।

মশলা গুঁড়ো করা, মাংস, মাছের জন্য মশলা তৈরি, মশলা পেষাই, চাটনির জন্য বিশেষ মশলা তৈরি করে নেওয়া সবটাই চলত শিলে। ডাল বেটে যে বড়ি দেওয়ার চল ছিল সেই ডালও বাটা হত এই শিলনোড়াতে।

দিন বদলেছে। ভাবনাতেও এসেছে বদল। এখনকার দিনে মশলা পিষতে ভরসা মিক্সি মেশিন। কারণ মানুষের হাতে সময় কম। সেই সঙ্গে কমেছে কর্মদক্ষতাও। তবে সবার প্রশ্ন একটাই। শিলে বাটা মশলার স্বাদ কি আদৌ মেলে মিক্সির মশলাতে?

মিক্সি মেশিনে মাত্র ২ মিনিটের মধ্যেই সব মশলা বাটা হয়ে যায়। তবে শিলে বাটা মশলা আর মিক্সির মশলার স্বাদের মধ্যেও কিন্তু ফারাক রয়েছে। অনেকেই গরম মশলা বাড়িতে গুঁড়ো করে নেন। শুকনো কড়াইতে নাড়াচাড়া করে এই মশলা শিলে বাটলে একরকম স্বাদ আসে। সেই সঙ্গে একটা ঝাঁঝ থাকে। যা মিক্সিতে বাটা মশলায় থাকে না।

আদা, রসুনের পেস্ট শিলে যত ভাল বাটা হয় মিক্সিতে তা হয় না। শিলে বাটা আদা রসুনের স্বাদ, গন্ধ অনেক ভাল হয়। অন্যদিকে পোস্তর স্বাদেও থাকে বিস্তর ফারাক। পোস্ত শিলে বেটে খেতে যত ভাল লাগে মিক্সিতে তা মোটেই লাগে না।