তামার পাত্রে জল খাচ্ছেন? আপনার শরীরে কী কী ঘটছে জানেন?

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, তামার প্রকৃতি হল 'উষ্ণ' এবং 'তীক্ষ্ণ'। এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করলেও শরীরের 'পিত্ত দোষ' বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাঁদের শরীর এমনিতেই একটু গরম প্রকৃতির বা যাঁদের পিত্তের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য তামার পাত্রের জল হিতে বিপরীত হতে পারে।

তামার পাত্রে জল খাচ্ছেন? আপনার শরীরে কী কী ঘটছে জানেন?

Mar 10, 2026 | 5:38 PM

জলই জীবন। কিন্তু সেই জল কোন পাত্রে রেখে খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করছে আপনার সুস্থতা। বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনরা তামার পাত্রে বা কপার বোতলে জল খাওয়াকেই নিরাপদ মনে করছেন। আয়ুর্বেদ থেকে আধুনিক বিজ্ঞান- সবাই একবাক্যে স্বীকার করে যে তামার পাত্রে জল রাখা উপকারী। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। সবার শরীরের জন্য তামার পাত্রের জল মোটেই অমৃত নয়, বরং কারও কারও ক্ষেত্রে তা হয়ে উঠতে পারে বিষের সমান। আপনি কি জানেন, আপনার অজান্তেই এই অভ্যাস আপনার লিভার বা কিডনির ক্ষতি করছে কি না?

তামার জল কি সবার জন্য?

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, তামার প্রকৃতি হল ‘উষ্ণ’ এবং ‘তীক্ষ্ণ’। এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করলেও শরীরের ‘পিত্ত দোষ’ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাঁদের শরীর এমনিতেই একটু গরম প্রকৃতির বা যাঁদের পিত্তের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য তামার পাত্রের জল হিতে বিপরীত হতে পারে।

কাদের জন্য এই জল এড়িয়ে চলাই মঙ্গল?

অ্যাসিডিটির সমস্যা: আপনার যদি ঘনঘন অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা বা পেটে জ্বালাপোড়া হওয়ার ধাত থাকে, তবে তামার জল থেকে দূরে থাকাই ভালো। এমনকি ত্বকের র‍্যাশ বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা থাকলেও এটি এড়িয়ে চলুন।

লিভার ও কিডনির সমস্যা: চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের লিভার বা কিডনিজনিত রোগ রয়েছে, তাঁদের শরীরে তামা বা কপার জমতে শুরু করলে তা সহজে বের হতে পারে না। ফলে শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ: অতিরিক্ত কপার শরীরে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকারক।

ছোট শিশু: শিশুদের পাচনতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। খালি পেটে তামার পাত্রের জল দেওয়া তাদের জন্য খারাপ হতে পারে।

সঠিক নিয়মটি কী?

তামার পাত্রে জল খাওয়ার যেমন উপকার আছে, তেমনি তার সঠিক পদ্ধতিটাও জানা জরুরি। জল অন্তত ৮ ঘণ্টা তামার পাত্রে রাখা উচিত, তবে ১২ ঘণ্টার বেশি নয়। টানা তিন মাস তামার জল খাওয়ার পর অন্তত এক মাস বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। এতে শরীরে অতিরিক্ত কপার বা তামা জমার সুযোগ পায় না। তাই আপনার শরীরের ধাত বুঝে তবেই জলের পাত্র বাছুন।

 

 

Follow Us