
গত কয়েক বছরে হৃদরোগের ধরণের আমূল বদল এসেছে। একটা সময় মনে করা হত, হার্ট অ্যাটাক মানেই তা বার্ধক্যজনিত সমস্যা। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে। ‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণা অনুযায়ী, হৃদরোগের ঝুঁকি এখন ৩৫ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময় থেকেই তীব্র হতে শুরু করেছে। এমনকি নারীদের তুলনায় এই বয়সের পুরুষদের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান বলছে, বছরে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ মানুষ হৃদরোগে প্রাণ হারান, যার মধ্যে ৮৫ শতাংশই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের শিকার। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হার্ট অ্যাটাক কোনও আচমকা ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়; বরং এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ভুল অভ্যাসের ফল। ধমনীতে দিনের পর দিন ময়লা বা ‘প্লাক’ জমে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে এবং অকাল মৃত্যু এড়াতে চিকিৎসকেরা যে পাঁচটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন, জেনে নিন
চিকিৎসকদের মতে রক্তে শর্করার আচমকা বৃদ্ধি ধমনীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারী খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়, যা সরাসরি হৃদযন্ত্রের ধকল কমিয়ে দেয়।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী, ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে ওমেগা-৩ এর কোনও বিকল্প নেই। সামুদ্রিক মাছ (যেমন স্যামন) বা উচ্চমানের সাপ্লিমেন্ট ধমনীর নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তনালীতে চর্বি জমতে বাধা দেয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, অপর্যাপ্ত ঘুম হৃদরোগের জন্য ‘সাইলেন্ট কিলার’। যারা রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। শরীরকে পুনর্গঠিত করতে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম একান্ত প্রয়োজন।
প্লাস্টিকের পাত্রে থাকা ‘থ্যালেট’ (Phthalates) নামক রাসায়নিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ধমনীকে দৃঢ় করে দেয়। চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশ— প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার রাখা বা জল খাওয়া আজই বন্ধ করুন। এর বদলে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ, যা সরাসরি হার্ট অ্যাটাককে ত্বরান্বিত করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা লবণের পরিমাণ কমিয়ে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (যেমন কলা বা পালং শাক) যুক্ত করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সুস্থ হার্ট কোনও ম্যাজিক নয়, সঠিক জীবনযাপন করলে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আজ থেকেই এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো শুরু করলে ভবিষ্যতে বড়সড় বিপদ এড়িয়ে চলা সম্ভব।