জানেন রোজ মাত্র ১ কিমি হাঁটলে এক মাসে কতটা ওজন কমে?
হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম যা যে কোনও বয়সের মানুষ অনায়াসেই করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটার মাধ্যমে শুধু শরীর নয়, মনেরও যত্ন নেওয়া হয়। এটি আপনাকে প্রকৃতির কাছাকাছি আনে, নিজেকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত হাঁটলে একাধিক ক্রনিক রোগের ঝুঁকিও কমে।

ওজন কমানো এবং মেদ ঝরানোর জন্য আজকাল হরেক রকম ‘মডার্ন’ উপায় জনপ্রিয়। কেউ করছেন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কেউ কিটো ডায়েট, আবার কেউ বেছে নিচ্ছেন ডিএনএ ডায়েট বা ডিটক্স ড্রিঙ্কস। এর মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে— ‘রোজ ১ কিলোমিটার হাঁটা’। কিন্তু প্রশ্ন হল, দিনে মাত্র ১ কিমি হেঁটে কি ওজন কমানো সম্ভব? এক মাসে এর ফলাফলই বা কী হতে পারে? এই নিয়ে মুখ খুললেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম যা যে কোনও বয়সের মানুষ অনায়াসেই করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটার মাধ্যমে শুধু শরীর নয়, মনেরও যত্ন নেওয়া হয়। এটি আপনাকে প্রকৃতির কাছাকাছি আনে, নিজেকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত হাঁটলে একাধিক ক্রনিক রোগের ঝুঁকিও কমে।
ইন্টিগ্রেটিভ থেরাপিউটিক নিউট্রিশনিস্ট ডঃ গীতিকা চোপড়ার মতে, রোজ ১ কিমি হেঁটে ঠিক কতটা ওজন কমবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার শারীরিক গঠন এবং জীবনযাত্রার ওপর। ১ কিমি হাঁটা একটি ভালো অভ্যাসের শুরু হতে পারে, কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে ফ্যাট কমানোর জন্য এটি যথেষ্ট নয়।
হিসেব অনুযায়ী, যদি আপনি আপনার ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাসে কোনও পরিবর্তন না করেন এবং প্রতিদিন ১ কিমি করে হাঁটেন, তবে এক মাসে আপনার শরীর থেকে প্রায় ১২০০ থেকে ২০০০ ক্যালোরি খরচ হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এর ফলে এক মাসে মাত্র ০.১৫ থেকে ০.২৫ কিলোগ্রাম মেদ ঝরবে। অর্থাৎ, আয়নায় আপনার চেহারায় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন চোখে পড়বে না। তবে এর ইতিবাচক দিক হল— আপনার শরীর সচল থাকবে।
ওজন কমা আর কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
১ কিমি হাঁটা ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নির্ভর করে নিচের বিষয়গুলোর ওপর
শরীরের ওজন: যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের ক্যালোরি বেশি খরচ হয়।
বিএমআর (BMR): আপনার মেটাবলিজম যদি ধীর গতির হয়, তবে ফ্যাট কমবে ধীরে।
হাঁটার গতি: সাধারণ হাঁটার চেয়ে দ্রুত হাঁটা বা ‘ব্রিস্ক ওয়াকিং’ (ঘণ্টায় ৫-৬ কিমি) বেশি কার্যকর।
খাদ্যাভ্যাস: হাঁটার পর যদি আপনি ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেয়ে ফেলেন, তবে হাঁটার সুফল নষ্ট হয়ে যাবে।
অন্যান্য কারণ: পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ এবং হরমোনের ভারসাম্য (যেমন থাইরয়েড বা পিসিওএস) ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
রোজ ১ কিমি হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখার জন্য চমৎকার একটি ‘স্টার্ট হ্যাবিট’। কিন্তু যদি আপনার লক্ষ্য হয় দ্রুত ওজন কমানো, তবে হাঁটার দূরত্ব এবং গতির পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
