
বর্তমান যুগে হাতে একটা স্মার্টফোন আর তাতে সক্রিয় একটা সিম কার্ড না থাকলে জীবন যেন অচল। ব্যাঙ্কের ওটিপি থেকে শুরু করে প্রিয়জনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ- সবই নির্ভর করে ছোট্ট ওই চিপটির ওপর। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার ফোনে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা সিম কার্ডটিরও কি কোনও ‘এক্সপায়ারি ডেট’ আছে? নাকি ওটা আমৃত্যু আপনার ফোনে এভাবেই কাজ করে যাবে? হঠাৎ একদিন সকালে উঠে যদি দেখেন ফোনে নেটওয়ার্ক নেই বা ‘ইনভ্যালিড সিম’ দেখাচ্ছে, তবে বুঝবেন বিপদ ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।
সিম কার্ড কেন নষ্ট হয়ে যায়?
সিম কার্ড মূলত তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে, যার মাঝখানে বসানো থাকে একটি সিলিকন চিপ। আপাতদৃষ্টিতে এর কোনও নির্দিষ্ট মেয়াদের কথা কোম্পানিগুলো না বললেও,ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর সিম কার্ড নষ্ট হয়ে যায়।
এই সিম কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত তিনটি কারণ থাকে
আদ্রতা ও জল- ফোনের স্পিকার বা চার্জিং পোর্ট দিয়ে জলীয় বাস্প ঢোকে, আর সেটাই সিম কার্ডের ওপরে থাকা সোনালী অংশে মরচে ধরিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ সিমটির নেটওয়ার্ক সিগন্যাল গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়।
বারবার সিম বদলানো – অনেকেই বারবার হ্যান্ডসেট বদলান, আর সেই কারণে সিমকার্ড বারবার খোলা ঢোকানো করতে গিয়ে ঘর্ষণে চিপটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অত্যাধিক তাপ – গেম খেলা বা টানা চার্জে বসিয়ে রাখলে ফোন গরম হয়ে যায়, এবং তার ফলে সিম কার্ডের মধ্যের প্লাস্টিকের কাঠামো এবং ভিতরের চিপের ওপর চাপ পড়ে।
কখন বুঝবেন সিম কার্ডটি বদলে ফেলতে হবে?
যদি দেখেন আপনার ফোনে মাঝেমধ্যেই নেটওয়ার্ক উড়ে যাচ্ছে, কথা বলার সময় বারবার কল ড্রপ হচ্ছে বা ইন্টারনেট কানেকশন ধীর হয়ে গিয়েছে তাহলে বুঝবেন সিম কার্ড বদলানোর সময় এসে গিয়েছে।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞে মতে একটি সিম টানা ৮ থেকে ১০ বছর ব্যবহার করা উচিৎ নয়। যদি আপনার সিম অনেক বছরের পুরনো হয়ে থাকে তাহলে সিম কার্ডটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই আপনার পুরনো নম্বর দিয়েই একটি নতুন সিম নিয়ে নিন। এতে আপনার ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বা কন্ট্যাক্ট লিস্ট হারানোর কোনও ভয় থাকেনা। তাই সিম নষ্ট হওয়ার আগেই তা বদলে ফেলা জরুরি।