সর্দিতে নাক বন্ধ? ঘরোয়া কায়দায় খুলে ফেলুন
এই সময়ে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি ও ঠান্ডা লাগার সমস্যা লেগেই রয়েছে। সর্দির চেয়েও যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়, তা হল নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। রাত্রে শুতে গেলেই মনে হয় দম আটকে আসছে, যার জেরে ঘুম উধাও। চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা লাগলে নাসিকাপথের রক্তনালীগুলোতে অতিরিক্ত তরল জমে ফুলে ওঠে, যার ফলে হাওয়া চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্ষার আগমনী বা আচমকা আবহাওয়া বদলের এই সময়ে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি ও ঠান্ডা লাগার সমস্যা লেগেই রয়েছে। সর্দির চেয়েও যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়, তা হল নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। রাত্রে শুতে গেলেই মনে হয় দম আটকে আসছে, যার জেরে ঘুম উধাও। চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা লাগলে নাসিকাপথের রক্তনালীগুলোতে অতিরিক্ত তরল জমে ফুলে ওঠে, যার ফলে হাওয়া চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
বাজারচলতি ইনহেলার বা ড্রপ সাময়িক আরাম দিলেও অতিরিক্ত ব্যবহারে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই কোনও ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া কায়দায় কীভাবে চটজলদি বন্ধ নাক খুলে ফেলা যায়, রইল সেই জাদুকরী টিপস।
বন্ধ নাক খোলার সবচেয়ে প্রাচীন ও বিজ্ঞানসম্মত উপায় হল স্টিম নেওয়া। একটি বড় পাত্রে জল ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এবার মাথার ওপর একটি বড় তোয়ালে এমনভাবে ঢেকে নিন যাতে ভেতরের বাষ্প বাইরে বেরোতে না পারে। পাত্রটির কাছাকাছি মুখ নিয়ে সাবধানে গরম জলের ভাপ নাক ও মুখ দিয়ে টানুন। জলের মধ্যে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল বা সামান্য পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিলে সাইনাসের ব্লকেজ এক মিনিটেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় বা ছোট তোয়ালে হালকা গরম জলে ভিজিয়ে ভালো করে চিপে নিন। এবার এই ঈষদুষ্ণ তোয়ালেটি আপনার নাক, কপাল এবং চোখের ওপর দিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এই গরম সেঁক নাসিকাপথের ভেতরের প্রদাহ বা ফোলাভাব কমিয়ে দেয় এবং জমা সর্দি তরল করে বের করে দিতে সাহায্য করে।
নাক বন্ধের সমস্যায় গোলমরিচ দারুণ কাজ করে। এক চামচ খাঁটি মধুর সঙ্গে এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে দু-তিনবার খান। গোলমরিচের ঝাঁঝালো উপাদান নাসিকাপথের ব্লকেজ কাটাতে সাহায্য করে এবং মধু গলার খুসখুসে ভাব দূর করে।
ছোটদের ক্ষেত্রে এই টোটকা দারুণ কাজ দেয়। কড়াইতে ২-৩ কোয়া রসুন এবং এক চামচ জোয়ান শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিন। এবার একটি পাতলা সুতির কাপড়ে ওগুলো বেঁধে একটি ছোট পোটলা তৈরি করুন। এই পোটলার গন্ধ কিছুক্ষণ পর পর শুকলে বন্ধ নাক নিমেষেই খুলে যায়। রসুনের অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান জীবাণুনাশ করতেও সাহায্য করে।
নাক বন্ধ থাকলে শরীর যাতে শুকিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাই সারাদিন হালকা গরম জল, আদা-তুলসির ভেষজ চা বা গরম স্যুপ খান। তরল খাবার জমা সর্দিকে পাতলা করে দেয়। এছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটির বদলে দুটি বালিশ ব্যবহার করুন। মাথা শরীরের চেয়ে উঁচুতে থাকলে নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়।
ঘরোয়া উপায়ে সাধারণ সর্দি-জনিত নাক বন্ধ সহজেই দূর হয়। তবে এই সমস্যার সাথে যদি তীব্র জ্বর, মাথা যন্ত্রণা বা শ্বাসকষ্ট থাকে এবং তা ৩-৪ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
