
গরম বাড়ছে আর তার মধ্যেই উপদ্রব বেড়েছে মশার। রাতে ঘুমানোর সময় কানের কাছে মশার গান আর কামড়ে তিতিবিরক্ত হন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। মশা তাড়াতে বাজারচলতি কয়েল, লিকুইড বা স্প্রে ব্যবহার করেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলোর রাসায়নিক ধোঁয়া শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে এই সব কেমিক্যাল। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার ঘরের জানালার এক কোণেই রাখতে পারে মশা তাড়ানোর অব্যর্থ ওষুধ? স্রেফ দুটি ভেষজ গাছ আপনার ঘরকে করতে পারে মশামুক্ত।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট গাছের গন্ধ মশা একদমই সহ্য করতে পারে না। তার মধ্যে অন্যতম হল পুদিনা (Mint) এবং তুলসী (Tulsi)।
তুলসী: হিন্দুধর্মে তুলসী গাছকে পবিত্র মনে করা হয়, তবে এর বৈজ্ঞানিক গুণাগুণও অপরিসীম। তুলসী পাতার কড়া গন্ধ মশার যম। জানালার ধারে তুলসী গাছ থাকলে মশা ঘরে ঢোকার আগে ওই গন্ধেই পালাবে। এছাড়া তুলসী পাতা থেকে নির্গত তেল মশার লার্ভা ধ্বংস করতেও সক্ষম।
পুদিনা: পুদিনা পাতার সুগন্ধ মানুষের পছন্দ হলেও মশাদের একেবারেই পছন্দ নয়। শুধু জানালার ধারে গাছ রাখাই নয়, আপনি যদি পুদিনা পাতার নির্যাস বা রস বের করে ঘরের দরজায় বা কোণে স্প্রে করেন, তবে মশার উপদ্রব নিমেষেই কমে যাবে।
এই ঘরোয়া উপায়ের সবথেকে বড় সুবিধা হল এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী। বাজার থেকে দামি ইলেকট্রিক মেশিন বা বিষাক্ত স্প্রে কেনার প্রয়োজন নেই। এই গাছগুলো খুব সহজেই টবে বাঁচে এবং অল্প যত্নেই বেড়ে ওঠে। এছাড়া পুদিনার স্প্রে তৈরি করাও খুব সহজ। পুদিনা পাতা ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিলেই তৈরি আপনার প্রাকৃতিক ‘মস্কুইটো রিপেলেন্ট’।
কেন এই পদ্ধতি সেরা?
অধিকাংশ মশা তাড়ানোর কয়েলে থাকে ‘অ্যালেথ্রিন’ জাতীয় উপাদান, যা দীর্ঘক্ষণ ফুসফুসে গেলে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেখানে তুলসী বা পুদিনা সম্পূর্ণ নিরাপদ। শুধু মশা তাড়ানোই নয়, এই গাছগুলো ঘরের বাতাসকে শুদ্ধ রাখতেও সাহায্য করে। মশা পালাবে জানলা দিয়ে, আর আপনি ঘুমাতেও পারবেন নিশ্চিন্তে। তবে কোনও অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।