Rajma vs Egg Protein Benefits: রাজমা না ডিম! পুষ্টি কীসে বেশি? কী বলছেন ডাক্তার?
Rajma vs egg protein: ডিম নাকি রাজমা, প্রোটিনের লড়াইয়ে সেরা কে? বৈজ্ঞানিক সত্য ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক ড: নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিম না রাজমা শরীরের জন্য কোনটা বেশি উপকারী?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে ডিম ভালো নাকি রাজমা? এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। কিন্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে এই দুটোর মধ্যে আসল তফাতটা ঠিক কোথায়? এই পুষ্টির লড়াইয়ের আসল রহস্য ও বৈজ্ঞানিক সত্যটি বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রখ্যাত চিকিৎসক ড: নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Dr. Narayan Banerjee)।
তাঁর মতে, একটি বড় ডিম এবং ১০০ গ্রাম রান্না করা রাজমার মধ্যে পুষ্টিগত বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। তিনি জানান, একটি বড় ডিম থেকে সাধারণত প্রায় ৭ গ্রাম মত প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্য দিকে, ১০০ গ্রাম রান্না করা রাজমা খেলে মিলবে প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯ প্রোটিন। পরিমাণে রাজমা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও গুণগত মানের দিক থেকে একটি বড় খামতি রয়েছে। রাজমার প্রোটিন কিন্তু ‘কমপ্লিট প্রোটিন’ বা সম্পূর্ণ প্রোটিন নয়, কারণ এতে কিছু প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের ঘাটতি থাকে। তবে রাজমার এই খামতি দূর করার একটি সহজ উপায়ও বাতলে দিয়েছেন তিনি। ড: নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “যদি রাজমা ভাতের সাথে মিক্স করা হয় তাহলে কিন্তু সেই এক্সট্রা অ্যামাইনো অ্যাসিড চলে আসে। রাজমা উইথ রাইস হচ্ছে কমপ্লিট প্রোটিন।” অর্থাৎ, একা রাজমা সম্পূর্ণ না হলেও ভাতের সঙ্গে মিলে তা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়ে ওঠে।
অন্য দিকে, ডিমের একটি নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। ডিমে ফাইবার বা কার্বোহাইড্রেট প্রায় থাকেই না। ড: বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ডিমের প্রোটিন শরীরে খুব দ্রুত কাজ করে, যা তাৎক্ষণিক শক্তি এবং মাসল বুস্টিংয়ে সাহায্য করে। ঠিক এই কারণেই যারা জিম করেন, তারা প্রতিদিন বহু সংখ্যায় ডিমের সাদা অংশ খেয়ে থাকেন। বিপরীতে, রাজমার প্রোটিন শরীরে একটু ধীরগতিতে কাজ করলেও এর অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। রাজমাতে শুধু প্রোটিনই থাকে না, বরং ভালো পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং আয়রন থাকে। ফলে রাজমা ও ভাতকে একত্রে একটি সম্পূর্ণ ডায়েট হিসেবে ধরা যায়।”
তাহলে শেষমেশ পুষ্টির বিচারে এগিয়ে রইল কে? ড. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, পুষ্টির দিক থেকে রাজমা-ভাত এবং ডিমের গুণাগুণ প্রায় সমান-সমান। তবে পুষ্টির পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাদের বিষয়টিও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে ডাক্তারবাবু বলেন, “আমাদের মুখে তো ডিমটাই সবচেয়ে ভালো লাগে… আমাদের বাঙালির টেস্ট কিন্তু ডিমের দিকে বেশি ফেভার করে।” নিজের শরীরের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী দুটোই খাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
