
পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে আর যাই হোক, অন্তত এক দিন শাড়ি মাস্ট! কিন্তু অনেকেই শাড়ি পরার কথা ভাবলেই একটু পিছিয়ে আসেন। কারণ একটাই, শাড়িতে পেট বা কোমরের কাছে অনেকটা ভারী দেখায়। প্রথমেই বলে রাখা ভালো, ভারী চেহারা মানেই খারাপ কিছু নয়। যে যেমন, তাঁকে সেভাবেই সবচেয়ে সুন্দর লাগে। আত্মবিশ্বাসই হল আসল সৌন্দর্য। তবে অনেকেই চান শাড়িতে তাঁদের যেন একটু স্লিম বা ছিপছিপে দেখায়। আর তার জন্য জিম বা ডায়েট করে ঘাম ঝরানোর সময় নেই অনেকেরই। শাড়ি বাছাই এবং পরার কায়দায় একটু স্মার্টনেস আনলেই ম্যাজিক সম্ভব।
কী কী করবেন?
শাড়ি বাছাই
পুজোর শপিং কি এখনও বাকি? নাকি আলমারি থেকে সেরা শাড়িটা খুঁজছেন? যদি স্লিম লুক চান, তবে কড়কড়ে বা ফুলে থাকা শাড়ির বদলে শিফন, জর্জেট বা লাইটওয়েট সিল্ক বেছে নিন। এই ধরনের ফ্যাব্রিক শরীরের সঙ্গে সুন্দরভাবে বসে থাকে। প্রিন্টের ক্ষেত্রে বড় মোটিফ বা চওড়া পাড়ের শাড়ি এড়িয়ে চলুন। লম্বালম্বি (vertical) স্ট্রাইপ বা সরু পাড়ের শাড়ি পরলে এক ধাক্কায় অনেকটা লম্বা ও ছিপছিপে দেখায়।
পেটিকোট নয়, শেপওয়্যার
শাড়িতে ভারী লাগার অন্যতম প্রধান কারণ হল পেটিকোট। সুতির ঘেরওয়ালা পেটিকোট কোমরের কাছে অনেকটা জায়গা নিয়ে থাকে। এখন এর বদলে শাড়ি শেপওয়্যার পরার দারুণ চল শুরু হয়েছে। শেপওয়্যার পরলে কোমরের মেদ ঢাকা পড়ে এবং শাড়ির ফল (fall) দারুণ আসে। প্যান্ডেল হপিংয়ের সময় হাঁটাচলায় স্বস্তি পেতে অবশ্যই সাইড-স্লিট বা কাটা অংশ দেওয়া শেপওয়্যার বেছে নিন।
ড্রেপিংয়ের স্মার্ট হ্যাকস
শাড়ি কীভাবে পরছেন, তার ওপর পুরো লুক অনেকটাই নির্ভর করে। কোমরের কাছে একসঙ্গে অনেক কুঁচি গুঁজে রাখলে পেট ফোলা লাগতে পারে। তাই কুঁচিগুলো সমান করে ভাঁজ করে পিন দিয়ে আটকে তারপর গুঁজে নিন। আঁচল ছেড়ে রাখার চেয়ে সুন্দর করে প্লিট করে কাঁধে পিন আপ করলে লুক অনেক বেশি পরিপাটি এবং স্লিম লাগে।
ব্লাউজ কাট
স্লিভলেস বা খুব ছোট হাতার ব্লাউজের বদলে কনুই পর্যন্ত হাতা বা থ্রি-কোয়ার্টার স্লিভস পরতে পারেন। এতে হাতের ভারী ভাব ঢাকা পড়ে যায়। গলার ডিজাইনের ক্ষেত্রে ভি-নেক, ডিপ ইউ বা পান পাতা গলা পরলে ঘাড়ের অংশ লম্বাটে লাগে, যা চোখের দেখায় একটা ব্যালান্স তৈরি করে।
সঠিক জুতো এবং পিন-আপ
শাড়ির সঙ্গে হিলস পরলে এমনিতেই কিছুটা লম্বা দেখায়, আর লম্বা লাগলে স্বভাবতই স্লিম লাগে। তবে আরামের কথা মাথায় রেখে ওয়েজেস বা প্ল্যাটফর্ম হিলস বেছে নিতে পারেন। শাড়ি পরার আগেই জুতো পরে নিন, এতে শাড়ির দৈর্ঘ্য ঠিক থাকে।
এই ছোট ছোট স্টাইলিং টিপসগুলো মাথায় রাখলে শাড়িতে আর কখনও অস্বস্তি হবে না। সঠিক সাজ আর ভরপুর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মণ্ডপে গেলে সবার চোখ আপনার দিকেই আটকে থাকবে।