Diseases caused by cockroaches: ভয়ঙ্কর রোগের কারণ আরশোলা! অবহেলা না করে বাঁচুন এভাবে
Cockroach health hazards: বাড়িতে আরশোলার উপদ্রব মানেই ভয়ঙ্কর সব রোগের হাতছানি। ই-কোলাই থেকে সালমোনেলা—আরশোলা কীভাবে আপনার অজান্তেই খাবারে বিষ মেশাচ্ছে এবং ঘরোয়া উপায়ে কীভাবেই বা এর থেকে মুক্তি পাবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

আরশোলা (Cockroach) নামটা শুনলেই অনেকের গা ঘিনঘিন করে ওঠে। রাতের বেলা রান্নাঘরের আলো নেভানোর পর যে রাজত্ব শুরু হয়, তা কখনও শুধু অস্বস্তিকরই নয়, রীতিমতো প্রাণঘাতী! আপনার সাধের পরিষ্কার রান্নাঘরে বা আলমারির আনাচকানাচে লুকিয়ে থাকা এই নিরীহ চেহারার পতঙ্গটি আসলে রোগের আস্ত এক ডিপো। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বাড়িতে এদের উপস্থিতি মানেই সপরিবারে মারাত্মক সব রোগের ঝুঁকিতে থাকা।
আপনি হয়তো ভাবছেন, স্প্রে করে দু-চারটে আরশোলা মেরে ফেলেছেন মানেই কেল্লাফতে। কিন্তু বাস্তবটা একদমই আলাদা। একটি পূর্ণবয়স্ক আরশোলা তার জীবদ্দশায় প্রায় এক লক্ষ আরশোলার জন্ম দিতে পারে! জোরালো আলো আর মানুষের স্পর্শ থেকে দূরে, অন্ধকার এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এরা নিজেদের বংশবৃদ্ধি করে। আর রাতে সুযোগ পেলেই আপনার খাবার ও বাসনের ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়। আর ঠিক এভাবেই নিঃশব্দে আপনার প্লেটে কীভাবে জীবাণু ছড়িয়ে যায়, তা আপনি টেরও পান না।
কী বলছে গবেষণা?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, নোংরা আবর্জনায় ঘুরে বেড়ানো আরশোলা নিছকই পোকা নয়, এরা ৩৩ ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ৬ ধরনের প্যারাসাইটের বাহক। এর মধ্যে রয়েছে ই-কোলাই ও সালমোনেলার মতো প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া। ডায়রিয়া, আন্ত্রিক, কলেরা, প্লেগ এবং টাইফয়েডের মতো রোগ এদের পা থেকে সরাসরি আপনার খাবারে পৌঁছে যায়। ফুড পয়জনিং থেকে শুরু করে খাদ্যনালী ও মূত্রনালীর সংক্রমণের পিছনে এদের ভূমিকা মারাত্মক।
শুধু পেটখারাপ নয়, বাড়িতে অ্যালার্জির অন্যতম প্রধান কারণ হল এই আরশোলা। সমীক্ষা বলছে, শহরাঞ্চলে ৭৩ থেকে ৭৮ শতাংশ অ্যালার্জেনের উৎস এরা। এদের লালা, মল বা ডিম থেকে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অ্যালার্জিক রাইনিটিস বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
কীভাবে চিরতরে মুক্তি পাবেন?
এদের হাত থেকে বাঁচতে গেলে শুধু বাজারচলতি রাসায়নিক স্প্রে যথেষ্ট নয়, চাই কোনও স্থায়ী সমাধান:
- বাড়িতে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। রান্নাঘর ও ভাঁড়ারঘর পরিষ্কার রাখুন। তেল-মশলা বা উচ্ছিষ্ট খাবার যেন এদিক-ওদিক ছড়িয়ে না থাকে।
- খোলা পাইপ বা নর্দমা দিয়ে এরা অনায়াসেই যাতায়াত করে। তাই এমন খোলা মুখ থাকলে তা অবিলম্বে বুজিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
- আরশোলা তাড়ানোর অব্যর্থ ওষুধ হল বোরিক অ্যাসিড। কাঁচা ডিমের কুসুমের সঙ্গে বোরিক অ্যাসিড পাউডার মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করে নিন। কিছুক্ষণ রেখে দিলেই তা শক্ত হয়ে যাবে। এবার রান্নাঘরের কোণায়, আলমারির খাঁজে বা বেসিনের তলায় এই বলগুলো রেখে দিন। এই মিশ্রণ আরশোলার শরীরে ঢুকলে তাদের বাইরের আবরণ বা হাড় নষ্ট হয়ে যায় এবং শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে মারা যায়। মানুষ বা পোষ্যের জন্য এটি ক্ষতিকর না হলেও, আরশোলাদের কাছে এটি সাক্ষাৎ যম!
তাই আর দেরি না করে আজই বাড়ি থেকে আরশোলা বিদায় করার প্রস্তুতি নিন। সুস্থ থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন।
