Pillow vs. No Pillow: বালিশ ছাড়া, না বালিশ নিয়ে ঘুমলে শিরদাঁড়া, ঘাড়ে ব্যথা হবে না?
Discover the benefits of sleeping without a pillow for spine alignment and skin health: মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ব্যথায় বালিশের ভূমিকা কতটা? বালিশ নিয়ে বা ছাড়া ঘুমনো উচিত? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা কিংবা পিঠের ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া- অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। আপনার কি শরীর চনমনে হওয়ার বদলে মনে হয় সারা রাত যুদ্ধ করে উঠেছেন? এই সমস্যার মূলে কি আপনার প্রিয় বালিশটি? মেরুদণ্ড এবং ঘাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বালিশ নিয়ে ঘুমানো ভালো নাকি বালিশ ছাড়া, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে, উত্তরটা লুকিয়ে আছে আপনার শোয়ার ভঙ্গিতে।
অনেকের ধারণা বালিশ ছাড়াই ঘুমনোই সবচেয়ে বেশি ভালো। কিন্তু ‘বোল্ড স্কাই’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন এবং অস্থি বিশেষজ্ঞদের মতে, বালিশের মূল কাজ হল ঘাড় ও মেরুদণ্ডকে একটি নির্দিষ্ট সরলরেখায় ধরে রাখা। যদি আপনার বালিশের উচ্চতা সঠিক হয়, তবে এটি ঘাড়ের স্বাভাবিক বক্ররেখা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ঘাড়ের পেশিগুলো বিশ্রাম পায় এবং ব্যথার ঝুঁকি কমে। এছাড়া আজকাল বাজারে অ্যান্টি-অ্যালার্জেনিক বালিশ পাওয়া যায়, যা ধুলোবালি থেকে শ্বাসকষ্টের রোগীদের সুরক্ষা দেয়। বিশেষ করে যাদের সাইনাস বা মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মাথা সামান্য উঁচুতে রেখে ঘুমনো বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, বালিশ ছাড়া ঘুমনোরও কিছু বৈজ্ঞানিক উপকারিতা রয়েছে। যখন আমরা সমতলে বালিশ ছাড়াই শুই, তখন মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে। যারা চিত হয়ে ঘুমন, তাঁদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। বালিশ ছাড়া ঘুমলে মুখের ত্বকের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না, যা দীর্ঘমেয়াদে বলিরেখা বা ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া এতে মাথা ও ঘাড়ে রক্ত সঞ্চালন নির্বিঘ্ন হয়, ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠলে শরীর অনেক বেশি সতেজ লাগে।
কার জন্য কোনটি সঠিক?
আসল কথা হল, আপনার শরীরের গঠন এবং শোয়ার ধরনই ঠিক করে দেবে আপনি বালিশ নেবেন কি না। আপনি যদি পাশ ফিরে ঘুমান, তবে ঘাড় ও কাঁধের দূরত্ব মেটাতে বালিশ অপরিহার্য। আবার যদি উপুড় হয়ে ঘুমনোর অভ্যাস থাকে, তবে বালিশ ছাড়াই ঘুমনো ভালো, নাহলে মেরুদণ্ডে টান পড়তে পারে। যদি দেখেন বালিশের ব্যবহার আপনার ঘাড় ব্যথার কারণ হচ্ছে, তবে পাতলা বালিশ ট্রাই করতে পারেন অথবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। সুনিদ্রাই হল সুস্থতার চাবিকাঠি। আপনার যদি কোনও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সমস্যা না থাকে, তবে যে অবস্থানে আপনি আরাম পান এবং সকালে সতেজ অনুভব করেন, সেটিই আপনার জন্য সেরা উপায়।
