AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Panta Bhat: পান্তা ভাতের ম্যাজিক! ব্রেকফাস্টে এটি খেলে শরীরে কী কী উপকার হয় জানেন?

রাতের বেঁচে যাওয়া ভাতে জল দিয়ে সকালবেলা খাওয়ার এই পদ্ধতিটিকে দীর্ঘদিন ধরে গরীবের খাবার বলে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক গবেষণা এর অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা তুলে ধরেছে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের চোখে পান্তা ভাতকে এক 'প্রোবায়োটিক পাওয়ারহাউস' বা প্রাকৃতিক সুপারফুডও বলা যায়।

Panta Bhat: পান্তা ভাতের ম্যাজিক! ব্রেকফাস্টে এটি খেলে শরীরে কী কী উপকার হয় জানেন?
পান্তা ভাতের ম্যাজিক! ব্রেকফাস্টে এটি খেলে শরীরে কী কী উপকার হয় জানেন?Image Credit: Pinterest
| Updated on: Oct 25, 2025 | 8:42 PM
Share

পান্তা ভাত, নামটা শুনলেই হয়তো অনেকের মনে আসে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের সকালবেলার জলখাবারের ছবিটা। কিন্তু আমাদের এই অতি সাধারণ, ঐতিহ্যবাহী খাবারটি আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের চোখে এক ‘প্রোবায়োটিক পাওয়ারহাউস’ বা প্রাকৃতিক সুপারফুডও বলা যায়। রাতের বেঁচে যাওয়া ভাতে জল দিয়ে সকালবেলা খাওয়ার এই পদ্ধতিটিকে দীর্ঘদিন ধরে গরীবের খাবার বলে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক গবেষণা এর অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা তুলে ধরেছে। গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি এই খাবারটি শুধু শরীরকে ঠান্ডাই রাখে না, বরং এটি যেহেতু বহু মূল্যবান পুষ্টিগুণে ভরপুর, তাই আমাদের স্বাস্থ্য ও জীবনশৈলীর জন্য অপরিহার্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই অতি পরিচিত খাবারটির অজানা স্বাস্থ্য রহস্যগুলি।

প্রোবায়োটিকের উৎস: পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাক্টেরিয়া জন্মায়, যা এক প্রকার উপকারী প্রোবায়োটিক। এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।

  • পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি: গাঁজনের ফলে সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

যেমন – আয়রন তৈরি হয়। পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ অনেক গুণ পর্যন্ত বাড়ে, যা রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) কমাতে সহায়ক।

ক্যালসিয়াম , পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলোর পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। যা হাড়ের স্বাস্থ্য এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

ভিটামিন বি১২ মেলে। গাঁজনের কারণে এই ভিটামিনটির পরিমাণ বাড়ে, যা ক্লান্তি দূর করতে ও স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করে।

  • হজম সহজ করে: গাঁজন প্রক্রিয়া জটিল শর্করাকে সরল ফর্মে ভেঙ্গে দেয়, ফলে পান্তা ভাত সহজে হজম হয় এবং পেটকে হালকা রাখে।
  • শরীরকে শীতল রাখে: পান্তা ভাত ন্যাচারাল কুলার বা প্রাকৃতিক শীতলকারক হিসেবে পরিচিত। এর জলীয় অংশ শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং গরমকালে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • ক্লান্তি ও অনিদ্রা দূর: এতে থাকা ভিটামিন বি১২ ক্লান্তি দূর করতে এবং অনিদ্রার সমস্যা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা: নিয়মিত পান্তা ভাত খেলে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ে। যা ত্বককে টানটান ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে। এবং এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। যা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

মনে রাখা জরুরি, পান্তা ভাত স্বাস্থ্যকর হলেও এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সঠিকভাবে তৈরি করা উচিত। পান্তা ভাত শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী বা অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী খাবার নয়, এটি স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানের এক দারুণ মেলবন্ধন। এর প্রোবায়োটিক গুণাগুণ অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে। একই সঙ্গে, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি১২-এর মতো খনিজ ও ভিটামিনের পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি আমাদের শরীরের জন্য এক মূল্যবান পুষ্টিকর খাদ্য।

Follow Us