Scientific Facts: জানেন গাছের ডালে ঘুমালেও পাখি পড়ে যায় না কেন?
Sleeping birds: বিছানায় শুয়েও ঘুমের ঘোরে নিচে ধপাস করে পড়ার ঘটনা নেহাত কম নয়! কিন্তু গাছের সরু ডালে বসে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেও পাখিরা কখনও নিচে পড়ে না কেন? পায়ের তলায় কি কোনও 'সুপারগ্লু' লাগানো থাকে? জেনে নিন প্রকৃতির এই আশ্চর্য রহস্য!

পাখি (Bird) নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। একটু ভেবে দেখুন তো, রাতে ঘুমের ঘোরে মানুষরা একটু এপাশ-ওপাশ করলেই খাট থেকে ধপাস! কিন্তু খেয়াল করেছেন কি, গাছের ডালে বসে দিব্যি ঘুমিয়ে কাদা হয়ে গেলেও ছোট পাখিরা কখনও নিচে পড়ে যায় না! ঝড়-বৃষ্টি বা হাওয়াতেও তারা ঠিক ডাল আঁকড়ে বসে থাকে। জানেন কী কারণে এমনটা হয়?
কী বলছে বিজ্ঞান?
ছোট পাখিদের, বিশেষ করে যারা ‘পারচিং বার্ড’ বা প্যাসারিন গোত্রের, তাদের পায়ের গড়নটা ভারী অদ্ভুত। এদের পায়ের সামনে তিনটে এবং পেছনে একটা আঙুল থাকে। পেছনের এই বিশেষ আঙুলটির নাম ‘হ্যালুক্স’। এরা যখন গাছের ডালে বসে, তখন শরীরের ওজনেই পায়ের জয়েন্টগুলো নিজে থেকে বেঁকে যায়। এর ফলে পেছনের রগ বা টেন্ডন টানটান হয়ে আঙুলগুলোকে দিয়ে ডাল শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে। বিজ্ঞানের ভাষায় পাখিদের পায়ের এই বিশেষ ক্ষমতাকে বলা হয় “অটোমেটিক পার্চিং মেকানিজম” (Automatic Perching Mechanism) বা স্বয়ংক্রিয় লকিং সিস্টেম।
‘করনেল ল্যাব অব অরনিথোলজি’-র তথ্য অনুযায়ী, পাখির পেশিগুলো এমনভাবে কাজ করে যে, ঘুমের মধ্যেও ডাল ধরে রাখার জন্য তাদের আলাদা করে কোনও মাথা ঘামাতেই হয় না। পুরো ব্যাপারটাই যেন একটা স্বয়ংক্রিয় লকের মতো কাজ করে। অর্থাৎ, ঘুমিয়ে পড়লেও গ্রিপ একদম আলগা হয় না!
বাতাসে ডাল দুললেও নো টেনশন!
হাওয়া দিলে গাছের ডাল তো দুলবেই। তাহলে তখন পাখিরা পড়ে যায় না কেন? ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘ম্যান্ডারিন ডায়মন্ড বার্ড’-এর ওপর একটি ডিজিটাল মডেল তৈরি করে বিষয়টি পরীক্ষা করেছেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পাখির হাড়, পেশি এবং টেন্ডন একসঙ্গে মিলে এমন একটা মজবুত সিস্টেম তৈরি করে, যা ছোটখাটো হাওয়ার ধাক্কার সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। এর ফলে সামান্য বাতাসেও এরা দিব্যি নিরাপদে ঘুমায়।
সবার স্টাইল কিন্তু এক নয়
তবে সব পাখির ঘুমানোর কায়দা আবার এক রকম নয়। কাঠঠোকরা বা টিয়াপাখির পায়ের গড়ন আলাদা, তাই তাদের বসার ধরনটাও আলাদা। আবার বক বা ফ্লেমিংগোর মতো পাখিরা এক পায়ে ভর দিয়ে দিব্যি আরাম করে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় স্টার্লিং পাখিরা সব সময় আঙুল দিয়ে ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে না। তাদের পা এমন একটি পজিশনে সেট করা থাকে, যা শরীরের ব্যালেন্স ধরে রাখতে সাহায্য করে। আর শীতের রাতে শরীর গরম রাখতে পাখিরা কী করে জানেন? ‘করনেল ল্যাব’-এর মতে, এরা এক পা শরীরের কাছাকাছি গুটিয়ে মাথাটাকে নরম পালকের ভেতর গুঁজে দেয়।
আরামের বিছানা না থাকলেও, ছোট্ট ওই শরীরটাতে প্রকৃতি যে কত বড় ইঞ্জিনিয়ারিং লুকিয়ে রেখেছে, তা ভেবে অবাক না হয়ে উপায় নেই! মানুষের মতো দামি গদি নেই তো কী হয়েছে, প্রকৃতির দেওয়া এই ‘অটোমেটিক লক’-ই পাখিদের শান্তির ঘুমের সবচেয়ে বড় গ্যারান্টি।
