Instant noodles history: জানেন কেন জাপান ইনস্ট্যান্ট নুডলস তৈরি করেছিল? শুনলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে
Food shortage history: ইনস্ট্যান্ট নুডলসের ইতিহাস কিন্তু আমাদের আজকের চেনা জলখাবারের মতো এত সহজ নয়। জানেন কীভাবে এক চরম মানবিক সঙ্কট ও হাহাকার থেকে জন্ম নিয়েছিল আপনার প্রিয় এই খাবার? নেপথ্যের সেই অজানা কাহিনি জানলে চমকে যাবেন আপনিও।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন দেশীয় স্বাদের সঙ্গে নিজেদের পছন্দমতো ইনস্ট্যান্ট নুডলস উপভোগ করেন। এক জাপানি উদ্ভাবকের দৃঢ় সংকল্পের ফলেই বিশ্ব এক নতুন ধরনের খাবারের স্বাদ পেয়েছিল। Getty ImagesImage Credit: Getty Images
- বাড়ি ছেড়ে হস্টেল বা মেসে থাকা বহু ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে ব্যস্ত তরুণ প্রজন্মের খিদে মেটানোর সবচেয়ে বড় ভরসা এই ইনস্ট্যান্ট নুডলস। গভীর রাতের পড়াশোনা হোক কিংবা ক্লান্তির দিনে চটজলদি পেট ভরানো, এই খাবারের বিকল্প মেলা ভার। তবে জানলে অবাক হবেন, আজ আমাদের যা প্রিয় জলখাবার, তার জন্ম কিন্তু কোনও রসনাতৃপ্তির জন্য নয়, হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও তীব্র খাদ্যসঙ্কট মোকাবিলার তাগিদ থেকে। Getty Images
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপানে চরম খাদ্যসঙ্কট দেখা দেয় এবং গোটা দেশ জুড়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। চালের প্রধান জোগান কমে যাওয়ায় মানুষকে এক বাটি সাধারণ নুডলসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হত। অনাহারে থাকা মানুষদের এই লড়াই দেখে জাপানি উদ্ভাবক মোমোফুকো আন্দো গভীরভাবে ব্যথিত হন। Getty Images
- মানুষের এই হাহাকার দেখে আন্দো ঠিক করেন এমন একটি খাবার তৈরি করবেন যা হবে সস্তা, সুস্বাদু এবং খুব দ্রুত তৈরি করা সম্ভব। ওসাকার ইকেদায় নিজের বাড়ির পেছনে একটি ছোট কাঠের চালাঘরে তিনি দিনরাত এক করে গবেষণা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। লক্ষ্য ছিল একটাই, সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পুষ্টিকর ও চটজলদি খাবার পৌঁছে দেওয়া। Getty Images
- অনেক ব্যর্থতার পর ১৯৫৮ সালের ২৫ অগস্ট আন্দো বিশ্বের প্রথম ইনস্ট্যান্ট নুডলস ‘চিকেন রামেন’ তৈরি করতে সফল হন। তিনি প্রথমে নুডলস সেদ্ধ করে তাতে মশলা মেশাতেন এবং পরে গরম তেলে দ্রুত ভেজে আর্দ্রতা সম্পূর্ণ দূর করতেন। এই বিশেষ পদ্ধতির ফলে নুডলস দীর্ঘদিন ভালো থাকত এবং ফুটন্ত জল দিলেই মাত্র কয়েক মিনিটে খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠত। Getty Images
- চিকেন রামেনের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর আন্দোর হাত ধরেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত সংস্থা ‘নিসিন ফুডস’। এরপর ১৯৭১ সালে তিনি নিয়ে আসেন আরও এক যুগান্তকারী আবিষ্কার, যার নাম ‘কাপ নুডলস’। একটি ডিসপোজেবল কাপের মধ্যেই নুডলস, মশলা এবং কাঁটাচামচ থাকত, যেখানে শুধুমাত্র গরম জল ঢাললেই পুরো খাবার প্রস্তুত হয়ে যেত। Getty Images
- কাপ নুডলস আসার পর থেকে পাত্র বা আলাদা বাসনের ঝামেলা ছাড়াই যে কোনও জায়গায় গরম খাবার খাওয়ার সুযোগ তৈরি হল। এক সময়ের অভাব ও অনাহার মেটানোর পথ খুঁজতে গিয়ে জন্ম নেওয়া এই খাবার দ্রুত পুরো বিশ্বের ব্যস্ত জীবনযাত্রার অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। আন্দোর এই উদ্ভাবনী ভাবনা গ্লোবাল ফুড ইন্ডাস্ট্রির চেনা ছবিটাই পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। Getty Images
- ২০০৭ সালের ৫ জানুয়ারি ৯৬ বছর বয়সে মোমোফুকো আন্দো প্রয়াত হলেও তাঁর অবিস্মরণীয় সৃষ্টি আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে বেঁচে রয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নিসিন ফুডস এখনও বিভিন্ন নতুন স্বাদ ও আধুনিক প্যাকেজিংয়ের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে চলেছে। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে তাঁর এই আবিষ্কার গোটা পৃথিবীর খাদ্য সংস্কৃতির ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। Getty Images
- বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন দেশীয় স্বাদের সঙ্গে নিজেদের পছন্দমতো ইনস্ট্যান্ট নুডলস উপভোগ করেন। এক জাপানি উদ্ভাবকের দৃঢ় সংকল্পের ফলেই বিশ্ব এক নতুন ধরনের খাবারের স্বাদ পেয়েছিল। Getty Images
Follow Us








