
দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত টিভি৯ ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া-তে বিশেষ যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হল। পুণ্যলগ্নে পবিত্র যজ্ঞের আগুনে আহুতি দিলেন উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথি এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা।
পুরোহিতের নির্দেশ মেনে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হল যজ্ঞের কাজ, ধূপের গন্ধে ম-ম করে উঠল চারপাশ। পুজো-অর্চনা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মেলবন্ধনে রীতিমতো জমজমাট দিল্লির এই উৎসব প্রাঙ্গণ।
যজ্ঞের সময় উপস্থিত থেকে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিলেন টিভি৯ নেটওয়ার্কের আধিকারিক এবং অন্যান্য অতিথিরা। এদিন চণ্ডীপাঠের পাশাপাশি মায়ের উদ্দেশে বিশেষ ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হয়।
এই পুণ্যলগ্নে বিশেষ যজ্ঞে অংশ নিতে দেখা গেল টিভি৯ নেটওয়ার্কের এমডি ও সিইও বরুণ দাসকে। পাশাপাশি এই ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া-তে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা এবং বিজেপি নেতা সতীশ উপাধ্যায়।
উৎসবের আনন্দ আর প্রাঙ্গণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা সারলেন টিভি৯ নেটওয়ার্কের এমডি ও সিইও বরুণ দাস ও অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। বড়দের পাশাপাশি খুদেদের জন্যও এই উৎসবে রাখা হয়েছে আঁকা ও ফ্যান্সি ড্রেস প্রতিযোগিতার বিশেষ আয়োজন।
দেবী দুর্গার দর্শন পেতে উৎসব প্রাঙ্গণে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, অঞ্জলি দেওয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে মণ্ডপে বসে পড়েন ভক্তরা। হাতে ফুল নিয়ে মায়ের চরণে ভক্তিভরে নিবেদনের জন্য প্রস্তুত হন সকলে।
অপরূপ সুন্দর প্রতিমার সামনে বসে তখন মায়ের আরাধনায় মগ্ন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। সাবেকি সাজে দেবী দুর্গার এই মোহময়ী রূপ নিমেষেই সকলের মন জয় করে নিয়েছে।
পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মণ্ডপ চত্বর, ভক্তি আর শ্রদ্ধায় পুজোয় অংশ নেন আপামর দিল্লিবাসী। করজোড়ে মায়ের কাছে প্রার্থনা ও পুষ্পাঞ্জলি দিলেন সকলে, যা এই পুজোর অন্যতম প্রধান অঙ্গ।
সুখ ও সমৃদ্ধির কামনায় চোখ বন্ধ করে মায়ের কাছে প্রার্থনা করলেন ভক্তরা। গতকাল সন্ধ্যায় ডিজে শিবলের বিটে ডান্ডিয়া রাসের তালে মেতে উঠেছিলেন আট থেকে আশি, এভাবেই আনন্দে জমজমাট হয়ে উঠেছে উৎসব।
পুজো আর যজ্ঞের পাশাপাশি আজ উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। টিভি৯ ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ার এই বিশাল আয়োজন ঘুরে দেখেন তিনি।
উৎসবের এমন জাঁকজমক ও ব্যবস্থাপনা দেখে মুগ্ধ হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। উপস্থিত বিশিষ্টজনেদের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি।
মণ্ডপ চত্বরে শুধু পুজোই নয়, জমিয়ে চলছে দেদার আড্ডাও। দর্শনার্থীরা নিজেদের মধ্যে গল্পগুজবে মেতে উঠেছেন, সকলের মুখেই একগাল হাসি আর উচ্ছ্বাস।
খাওয়া-দাওয়া আর জমিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর কী বা হতে পারে! দিল্লির বুকেই যেন এক টুকরো বাংলার ছবি ফুটে উঠেছে এই ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায়।
ধুনুচি নাচ আর ডান্ডিয়ার পাশাপাশি এমন জমজমাট আড্ডাই এই উৎসবকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোতেও এমনই মেজাজে থাকবে টিভি৯ ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া।