AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার: কেন মকর সংক্রান্তির স্নানের এত মাহাত্ম্য? জানুন পৌরাণিক ইতিহাস

এদিন সূর্য ধনু রাশি ছেড়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন। এই সময় থেকেই শুরু হয় সূর্যের ‘উত্তরায়ন’। শাস্ত্রমতে, সূর্যের উত্তরায়ন কাল হলো দেবতাদের দিন। এই শুভ লগ্নে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে জীবনের সমস্ত অন্ধকার ও অশুভ শক্তি দূর হয়ে আলোর সঞ্চার হয় বলে বিশ্বাস করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার: কেন মকর সংক্রান্তির স্নানের এত মাহাত্ম্য? জানুন পৌরাণিক ইতিহাস
| Updated on: Jan 14, 2026 | 9:00 AM
Share

পৌষের শেষ দিন, চারদিকে কনকনে ঠান্ডা আর ভোরের কুয়াশা। এই পরিবেশেই লক্ষ লক্ষ মানুষের গন্তব্য এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ। আজ মকর সংক্রান্তি। হিন্দু ধর্মে এই তিথিটি অত্যন্ত শুভ এবং গুরুত্বপূর্ণ। কথিত আছে, এই বিশেষ দিনে গঙ্গাসাগরের পবিত্র সঙ্গমে ডুব দিলে মোক্ষ লাভ হয়। কিন্তু কেন এই স্নানকে ঘিরে এত উন্মাদনা? কী এর প্রকৃত মাহাত্ম্য?

জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন সূর্য ধনু রাশি ছেড়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন। এই সময় থেকেই শুরু হয় সূর্যের ‘উত্তরায়ন’। শাস্ত্রমতে, সূর্যের উত্তরায়ন কাল হলো দেবতাদের দিন। এই শুভ লগ্নে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে জীবনের সমস্ত অন্ধকার ও অশুভ শক্তি দূর হয়ে আলোর সঞ্চার হয় বলে বিশ্বাস করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

রাজা ভগীরথ ও কপিল মুনির কাহিনী

গঙ্গাসাগরের মাহাত্ম্য জড়িয়ে রয়েছে পুরাণের এক কাহিনীতে। কথিত আছে, অযোধ্যার রাজা সগর অশ্বমেধ যজ্ঞ শুরু করলে ইন্দ্র সেই ঘোড়া চুরি করে কপিল মুনির আশ্রমের পাশে বেঁধে রাখেন। সগরের ৬০ হাজার পুত্র মুনিকে চোর ভেবে অপমান করলে মুনির অভিশাপে তাঁরা ভস্মীভূত হন। পরবর্তীকালে সগরের বংশধর রাজা ভগীরথ মর্ত্যে গঙ্গাকে নিয়ে আসেন এবং সেই পবিত্র জল ভস্মস্তূপের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সগরের পুত্রদের মুক্তি দেয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মকর সংক্রান্তির দিনেই গঙ্গা সাগরে মিলিত হয়েছিলেন। তাই এই তিথিতে স্নান করলে পিতৃপুরুষের আত্মা শান্তি পায়।

মোক্ষ লাভ ও পাপ মুক্তি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস— “সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার”‌। অর্থাৎ অন্যান্য তীর্থে বারবার যাওয়ার যে পুণ্য, গঙ্গাসাগরে একবার স্নান করলেই সেই ফল লাভ হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, মকর সংক্রান্তিতে সাগর সঙ্গমে স্নান করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ধুয়ে যায় এবং মানুষ পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি পেয়ে মোক্ষ লাভ করে।

দান-ধ্যানের বিশেষ গুরুত্ব

এদিন স্নানের পাশাপাশি দান-ধ্যান করারও বিশেষ প্রথা রয়েছে। তিল, গুড়, কম্বল বা বস্ত্র দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে সাগরের তীরে কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেওয়া এবং চাল-ডাল দান করার রীতি বহু প্রাচীন।