Durga Puja: অভাবের সংসারে দুই দশভুজা! মা-মেয়ের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

Durga Puja news: সুন্দরবনের প্রত্যন্ত সন্দেশখালি এলাকার বাসিন্দা দিপালী সর্দার। প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত তিনি। তবে শখ নয়, সংসারের অভাবই তাঁকে এই পেশায় নিয়ে এসেছে। সুন্দরবনের নোনা মাটির দেশে জীবনযুদ্ধ সহজ নয়। নদীতে মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন বহু মানুষ।

Durga Puja: অভাবের সংসারে দুই দশভুজা! মা-মেয়ের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা
দুই 'জীবন্ত' দুর্গাImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Oct 11, 2026 | 5:03 PM

ক্যানিং: ‘নারীই শক্তি, নারীই সৃষ্টি’-এই আপ্তবাক্যকে আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন সুন্দরবনের দুই লড়াকু নারী। মা ও মেয়ের অনন্য যুগলবন্দিতে রূপ পাচ্ছেন দণ্ডমুণ্ডেশ্বরী। পুরুষতান্ত্রিক পেশার চেনা ছক ভেঙে মা-মেয়ের হাতের জাদুতে সেজে উঠছে ক্যানিংয়ের মিত্র মহল ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমা। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে এক মায়ের হাতেই সম্পন্ন হয়েছে আরেক জগৎজননী মায়ের চক্ষুদানও।

পেটের টানেই প্রতিমা শিল্পী

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত সন্দেশখালি এলাকার বাসিন্দা দিপালী সর্দার। প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত তিনি। তবে শখ নয়, সংসারের অভাবই তাঁকে এই পেশায় নিয়ে এসেছে। সুন্দরবনের নোনা মাটির দেশে জীবনযুদ্ধ সহজ নয়। নদীতে মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন বহু মানুষ। দিপালীর পরিবারের নিজস্ব কোনও জমিজমাও নেই। তাই সংসার চালাতে মাটির প্রতিমা গড়াকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।

একসময় যে হাত সংসারের যাবতীয় কাজ সামলাত, সেই হাতেই এখন তৈরি হচ্ছে দেবদেবীর প্রতিমা। মাটির তাল থেকে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবীর মুখ, হাত, চোখ। বছরের পর বছর ধরে এই কাজ করেই সংসারের হাল ধরে রেখেছেন দিপালী। তবে এই লড়াইয়ে তিনি একা নন। পাশে পেয়েছেন নিজের মেয়ে লাকি সর্দারকে।

আইনের পড়ুয়ার তুলির টান

দিপালীর একমাত্র মেয়ে লাকি সর্দার। তিনি আইনের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে সমানতালে প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়া থেকে শুরু করে রং-তুলির শেষ ছোঁয়া, সবেতেই মাকে সাহায্য করেন লাকি।

এবার ক্যানিংয়ের মিত্র মহল ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন এই মা-মেয়ের জুটি। শুধু এই একটি পুজো নয়, চলতি বছর মোট ১০টি প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছেন তাঁরা। ফলে পুজোর আগে ব্যস্ততা তুঙ্গে। একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে প্রতিমা তৈরির কাজ। দুটোই সামলাচ্ছেন লাকি। মায়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর মেয়ের আগ্রহে একটু একটু করে সেজে উঠছেন দেবী দুর্গা।

ক্যানিং মিত্র মহল ক্লাবের মহিলা সদস্যরা এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, “নারীরা আজ কোনও ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই। একজন নারীই আর এক মহাশক্তি রূপী নারীকে সৃষ্টি করছেন, এর চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে! নারী-পুরুষ আজ সমাজে সমান। সুন্দরবনের এই দুই লড়াকু নারী শিল্পীকে নিজেদের মণ্ডপে পেয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।”

লিঙ্গবৈষম্য আর সামাজিক প্রতিকূলতার দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সুন্দরবনের এই মা-মেয়ে জুড়ি প্রমাণ করে দিলেন—নারীর হাত যেমন সংসার সামলাতে পারে, তেমনই পারে মহাশক্তিকে রূপ দিতে।

ক্যানিং মিত্র মহল ক্লাবের মণ্ডপে তৈরি হওয়া এই মাতৃপ্রতিমা আসলে একবিংশ শতাব্দীর স্বাধীন, স্বাবলম্বী ও লড়াকু নারীর প্রতীক। যা অনুভব করাবে সুন্দরবনের দুই ‘জীবন্ত দুর্গা’-র অপরাজিত রূপকথা।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us