
কলকাতা : মহালয়ার (Mahalaya 2026) ভোরে গঙ্গার ঘাটে উপচে পড়বে পুণ্যার্থীদের ভিড়। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করতে প্রতি বছরের মতো এবারও বহু মানুষ ভিড় জমাবেন গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে। আর সেই ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ রাজ্য সরকারের। মহালয়ার (Mahalaya Tarpan) অনেক আগের থেকেই গঙ্গার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।শুধু তাই নয়, প্রতিটি ঘাটের প্রস্তুতির উপর নজরদারি চালাতে জেলা প্রশাসন ও পুর কর্তৃপক্ষকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, মহালয়ার আগে গঙ্গার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাট এবং সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে হবে। ঘাটের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তা, হাঁটার পথ, সিঁড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে আবর্জনা সরাতে হবে। কোথাও পলি, আগাছা আবর্জনা জমে থাকলে তা দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পুণ্যার্থীদের ঘাটে পৌঁছতে কোনও সমস্যা না হয়।
পাশাপাশি, ঘাটের সিঁড়ি ও চাতাল ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও সিঁড়ি, রেলিং কিংবা হাঁটার রাস্তা যদি ভাঙা-চোরা থাকে, তাহলে তা দ্রুত মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহালয়া এবং আসন্ন দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে সৌন্দর্যায়নের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
মহালয়ার দিন সূর্যোদয়ের অনেক আগে থেকেই গঙ্গার ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড় শুরু হয়। তাই ঘাট এবং সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু ঘাটেই নয়, নদীর পাড়, ঘাটে যাওয়ার রাস্তা, হাঁটার পথ এবং পার্কিং এলাকাতেও পর্যাপ্ত আলো রাখতে হবে। বিশেষ করে ভোরের অন্ধকারে যাতে পুণ্যার্থীদের কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহালয়ার দিন গঙ্গার ঘাটে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য একাধিক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি, ঘাটের বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখতে হবে। বিশেষ করে মহালয়ার ভোরে যাতে আবর্জনা জমে না থাকে, তার জন্য নিয়মিত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
মহালয়ার ভোরে গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে ব্যারিকেড বসাতে হবে। ঘাটে প্রবেশ ও বেরোনোর পথেও নিরাপত্তার দিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে নদীর পাড় এবং ঘাটে নামার রাস্তায় যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এই সমস্ত ব্যবস্থা কার্যকর করতে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় পুরসভা, সেচ ও জলপথ দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু নির্দেশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়, মহালয়ার আগে সমস্ত ঘাটের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরির কথাও বলা হয়েছে। কোন ঘাটে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সেই কাজের তদারকির দায়িত্বে কোন আধিকারিক থাকবেন, তা ওই পরিকল্পনায় উল্লেখ করতে হবে।
জেলা ও পুর স্তরে নিয়মিত সেই কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার আগে সমস্ত চিহ্নিত ঘাট যাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।