সূর্যগ্রহণের সময় কেন খাবারে তুলসীপাতা দিতে হয়? জেনে নিন শাস্ত্র কী বলছে…
গ্রহণ শেষ হওয়ার পরেও সেই খাবার বা জল নিঃসংকোচে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। গঙ্গাজলকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে চিরপবিত্র বলে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, গঙ্গাজল কখনও অশুদ্ধ হয় না। গ্রহণের সময় বাড়ির প্রতিটি কোণে এবং ঠাকুরঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলে সেখানে উপস্থিত নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। শাস্ত্র ও পরম্পরা অনুযায়ী, গ্রহণের সময় পরিবেশের শুদ্ধতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, তুলসী পাতা এবং গঙ্গাজল—এই দুই পবিত্র উপাদানে এমন এক অলৌকিক শক্তি রয়েছে যা গ্রহণের নেতিবাচক বিকিরণ শুষে নিয়ে চারপাশকে পবিত্র রাখতে সাহায্য করে।
শাস্ত্র এবং আয়ুর্বেদ উভয় মতেই তুলসী একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভেষজ। মনে করা হয়, গ্রহণের সময় বায়ুমণ্ডলে এমন কিছু ক্ষতিকারক তরঙ্গ ও সূক্ষ্ম জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে যা খাবার ও পানীয়কে দূষিত করতে পারে। রান্না করা খাবার, দুধ বা পানীয় জলের পাত্রে একটি করে তুলসী পাতা ফেলে রাখলে তা ক্ষতিকারক রশ্মিকে প্রতিরোধ করে।
তুলসী পাতার উপস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যের সাত্ত্বিকতা বজায় থাকে। ফলে গ্রহণ শেষ হওয়ার পরেও সেই খাবার বা জল নিঃসংকোচে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। গঙ্গাজলকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে চিরপবিত্র বলে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, গঙ্গাজল কখনও অশুদ্ধ হয় না। গ্রহণের সময় বাড়ির প্রতিটি কোণে এবং ঠাকুরঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলে সেখানে উপস্থিত নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। গ্রহণের সময় অনেকের মনেই এক ধরনের অজানা ভয় বা উদ্বেগ কাজ করে। গঙ্গাজলের স্পর্শ মনকে শান্ত রাখে এবং বাড়িতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।
গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নিজেকে এবং গৃহকে পুনরায় পবিত্র করার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম শাস্ত্রে বর্ণিত আছে: ১. স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করলে শরীরের সমস্ত ক্লান্তি ও দোষ দূর হয় বলে মনে করা হয়। ২. স্নানের পর সারা ঘরে এবং বিগ্রহের গায়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেওয়া উচিত। ৩. যে খাবারগুলিতে তুলসী পাতা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ব্যবহারের আগে পাতাগুলি সাবধানে বের করে কোনো পরিষ্কার জায়গায় বা গাছের গোড়ায় রেখে দিতে হবে।
এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাধারণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। Tv9 Bangla এর সত্যতা যাচাই বা নিশ্চিত করে না।
