
কলকাতা : আজকের ম্যাচটা কি দেখছিলেন জর্জিও কিয়েলিনি, পাওলো মালদিনিরা ? ম্যাচ দেখতে দেখতে নিশ্চয়ই তাঁদের মনে পড়ছিল নিজেদের কথা। কোনও এক সময়ে ইতালির হয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামতেন মালদিনিরা। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেই সুয়ারেজকে কিয়েলিনির কামড় কে ভুলতে পারে ? সেখান থেকে টানা ৩টি বিশ্বকাপ। ২০১৮, ২০২২, ২০২৬ – তিনটি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হল ইতালি। হারাল সেই বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, যারা প্রায় ১২ বছর আগে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে চমক দেখানোর চেষ্টা করেছিল।
২০১৮এ সুইডেন, ‘২২এ নর্থ ম্যাসিডোনিয়া, আজ বসনিয়া। টানা তিন বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ছোট টিমগুলির বিরুদ্ধে হেরে ছিটকে গিয়েছে আজ্জুরিরা। এক মাস আগে এই খাস কলকাতায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলে গিয়েছে ইতালির ক্রিকেট দল। তবে, আজ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হেরে গিয়ে ছিটকে গেল ইতালি। ১-১ থেকে ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে। সেখানেই বাজিমাত বসনিয়ার।
বসনিয়ার ঘরের মাঠে আজ মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ১৫ মিনিটেই ইতালিকে এগিয়ে দেন ময়েস কিন। বার্কোলার পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশ করেন কিন। এরপরেই ডিফেন্সিভ খেলা শুরু করে ইতালি। ৪২ মিনিটে ছন্দপতন ঘটে। লাল কার্ড দেখেন আলেজান্দ্রো বাস্তোনি। ১০ জনের ইতালির বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে বসনিয়া। ৭৯ মিনিটে ক্রস থেকে ওঠা বলে হেড মেরে বল জালে জড়িয়ে দেন হ্যারিস তাভাকোভিচ। দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচান ইতালির কিপার দোনারুমা। নাহলে আগেই ম্যাচ হেরে যেত ইতালি। ৯০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিটে ম্যাচ গড়ায় । দুই দল আক্রমন শানালেও লিড নিতে পারেনি কোনও দল। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই প্রথম শটই বাইরে মারেন ইতালির এসপোসিতো। ওদিকে বসনিয়া ৪ শটের ৪টিতেই গোল করে বসনিয়া। প্রথম ও তৃতীয় শট মিস করেন ইতালির ফুটবলাররা। ৪-১ গোলে পেনাল্টিতে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলে বসনিয়া।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করল বসনিয়া। ২০১৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল বসনিয়া। ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে সুযোগ পেল তারা। অন্যদিকে, টানা ৩ বিশ্বকাপে খেলতে পারল না ইতালি। ২০০৬ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। ৪ বারের বিশ্বজয়ী আজ্জুরিদের কাছে এই দিন চরম হতাশা ও লজ্জার !