
কলকাতা : ব্যাটে বলে লাগতেই দৌড় শুরু করলেন তিনি। ততক্ষণে সেলিব্রেশন শুরু করে দিয়েছে চিপকের গ্যালারি। উৎসবেরই মুহূর্ত। শেষ দু’সপ্তাহ কম সমালোচনা হয়নি তাঁকে নিয়ে। প্রাক্তন পাক বোলার মহম্মদ আমির থেকে পাড়ার চায়ের দোকান, সবাই যেন তাঁর ভুল ধরতেই ব্যস্ত ছিল। কোথায় দুর্বলতা? কেন পারছেন না? টেকনিক নাকি মানসিক সমস্যা? চর্চার অন্ত ছিল না। কিন্তু তিনি, অভিষেক শর্মা সব সমালোচনা থামিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম হাফসেঞ্চুরিটা করলেন। ৫০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছে জড়িয়ে ধরলেন ঈশান কিষানকে। মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, প্রবল ঝড়ে দিশাহারা হয়ে গিয়েছিলেন। এতদিনে স্বস্তি পেলেন!
চেন্নাইয়ের এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে মুখোমুখি ভারত ও জিম্বাবোয়ে। গত ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে ব্যাকফুটে ভারত। অন্যদিকে, এই জিম্বাবোয়ে দল গ্রুপ লিগেই শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দুই শক্তিশালী দলকে হারিয়ে অঘটনের বার্তা দিয়েছে। আজ জিতলে তাও শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ভারতের সামনে। হারলেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে। টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন জিম্বাবোয়ে অধিনায়ক সিকান্দর রাজা। আজ দলে প্রত্যাবর্তন হয়েছে সঞ্জুর। প্রথম ওভার থেকেই মারকুটে ব্যাটিং করলেও জিম্বাবোয়ের তারকা বোলার ব্লেসিং মুজারাবানির বলে আউট হন তিনি। নামিবিয়া ম্যাচে খেলেছিলেন ৯ বল। আজ খেললেন ১৪ বল। রান করলেন ২৫। তিনি আউট হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ব্যাটিং অভিষেকময়। অফস্টাম্পের বলগুলোর জোরালো ড্রাইভ যেন চুপিসাড়ে বলে দিচ্ছিল, রানে ফিরতে কতটা মুখিয়ে ছিলেন তিনি। এর আগে গ্ৰুপ লিগে রানের খাতাই খোলেনি তাঁর। বল খেলেছিলেন মাত্র ৮। ঘুরে আসতে হয়েছিল হাসপাতাল থেকেও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গত ম্যাচে করেছিলেন ১৫। চিপকে সেই চেনা অভিষেকের দেখা মিলল। গোটা ইনিংসে মাত্র একবার ইনসাইড এজ লাগা ছাড়া একটুও অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়নি অভিষেককে। অফস্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতা নিয়ে এত যত কথা হচ্ছিল, তাও পুষিয়ে দিলেন। রেয়াত করলেন না অফস্পিনারদেরও। অবশেষে ১৩তম ওভারে তিনোটেন্ডা মাপোসার বলে ৫৫ রানে ড্রেসিংরুমে ফিরলেন অভিষেক। খেলেছেন ৩০ বল। মেরেছেন ৪টি বাউন্ডারি ও ৪টি বিশাল ছক্কা। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৮৪। যতই তাঁর ফর্ম নিয়ে কথা উঠুক, অভিষেক যে নিজেতেই মগ্ন, তা তাঁর আজকের ইনিংসেই স্পষ্ট। ভারতীয় সমর্থককূল আশা করবে, হয়ত ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধেও এই ফর্মেই থাকবেন তিনি।
কয়েকদিন আগেই তাঁর ব্যর্থতা দেখে তাঁকে ‘স্লগার’ আখ্যা দিয়েছিলেন প্রাক্তন পাক বোলার মহম্মদ আমির। সেই ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি বাসের মধ্যেও তাঁকে বোঝাতে দেখা গিয়েছিল কোচ গম্ভীরকে। আলাদা ট্রেনিং হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। আসমুদ্রহিমাচলের চর্চা ছিলেন একজনই। কিন্তু তিনি ফিরে আসতে জানেন। যাবতীয় সমালোচনার বাউন্সারকে পুল মেরে গ্যালারিতে পাঠাতে জানেন। তাঁর গুরুর আশীর্বাদ থাকলেও, শূন্য থেকে শুরু করতে জানেন। কারণ তাঁর গুরু তো যে কেউ নয়, যুবরাজ সিংহ।