
কলকাতা : গতবছর আইপিএলে আরসিবির চ্যাম্পিয়ন সেলিব্রেশন হয়ত কেউই ভোলেননি। উদযাপনের থেকে বেশি যেন শোকাতুর হয়ে গিয়েছিল দেশবাসী। আরসিবির ট্রফি সেলিব্রেশনে ১১ জন সমর্থক প্রাণ হারিয়েছিলেন। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই বছর বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে আরসিবি ও কর্নাটক বোর্ড। এবার সেই উদ্যোগে সামিল হল বিসিসিআইও। আগামী ২৮ তারিখ প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে আরসিবি ও হায়দ্রাবাদ। এই ম্যাচের আগেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করে দিল বিসিসিআই।
প্রত্যেক বছরেই আইপিএল শুরুর সময় প্রথম দিন জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় বোর্ডের তরফে। গতবছর আইপিএলে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতা ও বেঙ্গালুরু। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাহরুখ খান থেকে শ্রেয়া ঘোষাল, দিশা পাটানির মতো ফিল্ম ব্যক্তিত্বরা। কিন্তু এই বছর নিহত সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই কোনও রকম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করা হবে না। তবে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, ৩১ মে আইপিএল ফাইনালের দিন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চলেছে বিসিসিআই। সাইকিয়া বলেছেন,”গতবছর ৪ জুন ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার কারণে আইপিএলের প্রথম দিন কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে না। তবে ফাইনালের দিন একটি বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।” এর আগেও অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলায় ৪০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু ঘটার পর সেই বছরেও আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছিল বোর্ড। তখন বোর্ডের দায়িত্বে ছিল সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত করে দেওয়া অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স কমিটি। সেই অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ থাকা অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছিল নিহত সৈন্যদের পরিবারের হাতে। এবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে আইপিএলে।
নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে কর্নাটক বোর্ড। প্র্যাকটিসে ১১ নম্বরের জার্সি পরা থেকে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে প্রিমিয়াম ১১টি সিট বরাদ্দ করে রাখা, নানা প্রশংসামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে আরসিবি। এরপরেই বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে আরও মন জিতে নেবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।