
কলকাতা : টিভিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারী চ্যানেল খুললেই একটা কথা শোনা যাচ্ছে,”ইতিহাসকে পরাজিত করব, ইতিহাসকে পুনরায় ঘটাব।” আজ সেই মন্ত্রে বিশ্বাস করেই আহমেদাবাদের বাইশ গজের সামনে টস করতে নামবেন সূর্যকুমার যাদব। এর আগে ইতিহাসে কোনও দল টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতেনি। কোনও দল নিজেরই ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতেনি। সেই সব ঘটনা মাথায় রেখেই আজ মাঠে নামবেন ভারতের ১১ সৈনিক। আড়াই বছর আগে সবরমতীর তীরে যে হৃদয়ভঙ্গ হয়েছিল ভারতীয়দের, সেই দিন আজ ফেরাতে চাইবেন না ভারতীয় সমর্থকরা।
ফাইনালের বাইশ গজ এখনও চূড়ান্ত নয়। মোট ৪ রকমের পিচ রাখা হয়েছে। কালো মাটির উইকেট রয়েছে পিচে। এছাড়াও শিশির একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে আহমেদাবাদে। আজ গুজরাটের আকাশ পরিষ্কার থাকবে, ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। গরম থাকতে পারে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেও বড় ফ্যাক্টর হবে শিশির। বিশেষত, দ্বিতীয় ইনিংসের সময় শিশির পড়তে পারে। টস গুরুত্বপূর্ণ হবে। টসে জিতে দল ফিল্ডিং করতেই চাইবে। পরে ব্যাট করা সহজ হয়ে যাবে। এখানে লাল ও কালো দুই ধরণের পিচই রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ফাইনালও কালো পিচেই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ম্যাচের শুরুতে পেসাররা বাউন্সের সুবিধে পেতে পারে। তবে মাঝের ওভারে সুবিধে পাবেন স্পিনাররা। এই স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি বড় হওয়ার ফলে ছক্কা মারা একটু হলেও কঠিন ব্যাটারদের কাছে কিন্তু দুই দলের ব্যাটিং বড্ড শক্তিশালী। এই মাঠে ১৭০-১৮০ রান ভাল স্কোর হিসেবে ধরা হয়। ভারতীয় দলের জন্য চিন্তা থাকবে অভিষেককে নিয়ে। সতীর্থরা তাঁকে যতই সমর্থন করুন না কেন, অভিষেকের উপর পাহাড়প্রমাণ চাপ রয়েছে। আজ রিঙ্কু সিংকে খেলানোর কথা হলেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ওপেন করবেন সঞ্জু ও অভিষেক। তিনে ঈশান, চারে অধিনায়ক সূর্য, পাঁচে শিবম, ছয়ে হার্দিক বা তিলক। অভিষেককে আউট করার দায়িত্ব থাকবে ম্যাককঞ্চির উপর। এছাড়াও স্পিনার রাচীন রবীন্দ্রর উপরেও দায়িত্ব থাকবে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপে ধস নামানোর। ম্যাট হেনরি, জিমি নিশাম উইকেট নেওয়ার দিকে মনোযোগী হতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে চরম ফর্মে রয়েছেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। তাঁদের আউট করার ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হতে পারেন বুমরা। সেমিফাইনাল ম্যাচেও বুমরার হাতেই শেষ হয়েছিল ইংল্যান্ডের কাপ স্বপ্ন। আজও বুমরার উপরেই ভরসা করতে পারেন অধিনায়ক সূর্য। বরুণের বদলে কুলদীপকে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরুণের মিস্ট্রি যে আর রহস্য নেই, সেটা এতক্ষনে সবাই বুঝে গিয়েছেন। মাঝের ওভারে ফ্যাক্টর হবে অক্ষর প্যাটেলের ওভারগুলি। অক্ষরের ওভারে উইকেট পাওয়ার প্রত্যাশা করতেই পারে ভারতীয় ব্রিগেড।
আহমেদাবাদ স্টেডিয়াম ভারতীয় সমর্থকদের জন্য বরাবরের অভিশপ্ত। ২০২৩ সালে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল ভারতের। ভারতের আশা শেষ করে দিয়েছিলেন ট্র্যাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশানে। আজ সেই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই ফাইনাল খেলতে নামবে ভারতীয় দল। দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন, জসপ্রীত বুমরা। উল্টোদিকে দুর্ধর্ষ ফর্মে থাকা কিউয়িরা। ফাইনালে নিউজিল্যান্ড বধ করে অপয়া স্টেডিয়ামের অভিশাপ ঘোচাতে মরিয়া থাকবেন সূর্যকুমার যাদবরা। দুই বছর পর দলে নাই থাকতে পারেন সূর্যকুমার, বুমরারা। যাক, আজ তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জিতে আহমেদাবাদের অভিশাপ ঘোচালে নাম আরও উজ্জ্বল হবে সূর্যের। নাহলে ফেসবুকে স্টেডিয়ামের নাম বদলের পিটিশন দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।