
কলকাতা : গতকাল সন্ধ্যে থেকেই আকাশের মুখ ভার। সন্ধ্যে থেকেই অঝোরে শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। যার প্রভাব পড়েছে গতকাল নাইটদের প্র্যাকটিসে। খুব কম সময়ই দেখা যায়, কেকেআরের ম্যাচে টিকিট নিয়ে হাহাকার নেই। কিন্তু এটাই তো হয়ে চলেছে শেষ কয়েকটি ম্যাচ ধরে। দলের জয় আসছে না। আগের দিন বৃষ্টির ‘দয়া-দাক্ষিণ্যে’ ১ পয়েন্ট এসেছে বটে, কিন্ত ম্যাচ হয়ে গিয়েছে ৩টি। এর মধ্যেই আজকের কলকাতার আকাশ যেভাবে মুখ ভার করে রেখেছে, আজকের ম্যাচ না হলে ৪ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট পাবে কলকাতা। এই পয়েন্টে আরও দুর্দশা হবে কেকেআরের। জয় না এলে আর সমর্থকরা খেলা দেখতে আসবেন কেন ? তাই শাহরুখ খান মাঠে এলেও স্রেফ জয় না আসার দরুন গ্যালারি ভরাচ্ছেন না কেকেআর সমর্থকরা।
ম্যাচের আগের দিন প্র্যাকটিসে নেই অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। ক্যামেরন গ্রিন বোলিং শুরু করেছেন, এটাই খুশির খবর হতে পারত কিন্তু বরুণ চক্রবর্তীর ইনডোর ট্রেনিং ভোগাবে নাইটদের। পুরো ফিট সুনীল নারিন। যেতে বল করতে দেখা গেল তাঁকে। গ্রিনকে নিয়ে সম্ভবত ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে কেকেআর। আজ বল করবেন তিনি, এমনই খবর হাওয়ায়। তবে গ্রিন বল করলে একটু হলেও বোলিং শক্তিশালী হবে কেকেআরের। কিন্তু যেভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ টপ অর্ডার ভোগাচ্ছে, তাতে খুব একটা আশঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না সমর্থকরা। তিন ম্যাচের একটি ভেস্তে গিয়েছে বৃষ্টিতে। বাকি দুই ম্যাচের দুটিতেই ২২০ রানের বেশি রান খেয়েছে কেকেআরের বোলাররা। ফলত, বোলিং সবথেকে বেশি চিন্তায় রাখবে নাইটদের।
কেকেআরের চিন্তা বোলিং হলেও লখনৌয়ের জন্য আশার আলো জ্বালাবেন মহম্মদ শামি। এই আইপিএল আপাতত ভাল যাচ্ছে তাঁর। প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন। গত ম্যাচে পেয়েছেন ট্র্যাভিস হেড ও অভিষেক শর্মার উইকেট। ফলত, আজ কেকেআরের ব্যাটিংয়ের মেরুদন্ড ভাঙার দায়িত্ব থাকবে তাঁর হাতে। টিমের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দলকে নিয়ে আশা প্রচুর। তাই তাঁর প্রধান বাজি শামি। শামি নিজেও জানেন ইডেনের চরিত্র। তাই গতকাল নেটে বিশেষ বোলিং করলেন না কিন্তু অনেকক্ষন তাঁকে কথা বলতে দেখা গেল পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আজকেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে শহরে। আশা করা যায় সন্ধ্যেতে বৃষ্টি হলেও সেই ভাবে ম্যাচে তার প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বৃষ্টি প্রভাব না ফেললেও, আজ নিজেদের ১১০% দিতেই হবে নাইটদের। কারণ, লখনৌ যে ধারে, ভারে, সবেতেই এগিয়ে।