
কলকাতা: দেখো মা আমি উড়তে পারি… কথাগুলো বেশ আবেগের সঙ্গেই লিখেছেন আইপিএলের (IPL) নতুন ওয়ান্ডার বয় মায়াঙ্ক যাদব (Mayank Yadav)। আইপিএলে পরপর ২ ম্যাচে সেরার পুরস্কার পেয়েছেন মায়াঙ্ক যাদব। আরসিবি ম্যাচের একটি ছবি শেয়ার করে ইন্সটাগ্রামে ওই ক্যাপশন লিখেছেন তিনি। দিল্লির মোতিনগরের ছেলে মায়াঙ্ক যাদব। উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি, বয়স ২১ বছর। এই বয়সেই তাক লাগাচ্ছেন আইপিএলের মঞ্চে। আইপিএল বরবার তরুণ প্রতিভাদের নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ছেলেবেলায় চেহারা ভালো ছিল না মায়াঙ্কের। এখন তিনিই তাবড় তাবড় ব্যাটারদের প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখাচ্ছেন। ক্রিকেট কেরিয়ারে পরিবারকে তিনি সব সময় পাশে পেয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর বাবা প্রভু যাদব সব সময় ছেলেকে উজ্জ্বীবিত করেছেন ক্রিকেট খেলার জন্য। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছোট ছেয়ে মায়াঙ্ক। ওয়েস্ট দিল্লিতে মা, বাবা ও দিদির সঙ্গে থাকেন মায়াঙ্ক।
মায়াঙ্কের বাবা গাড়ির ডিজিটাল টাইমার (ডিজিটাল ঘড়ির মতো জিনিস) বানানোর কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের গাড়ির সাইরেন বানান। ছেলে ক্রিকেট খেলুক বরাবরই চাইতেন মায়াঙ্কের বাবা প্রভু যাদব। মায়াঙ্কের বাবা জোরে বোলারদের পছন্দ করতেন। তাই মায়াঙ্কের ছেলেবেলায় তিনি ডেল স্টেইন, মর্নি মর্কেল, মিচেল জনসনদের বল করা দেখাতেন। ছেলেবেলায় মায়াঙ্ক জোরে বল করার প্রতি আকর্ষিত হয়েছিলেন, যখন তিনি দেখেন ব্যাটারের হেলমেটে বা শরীরে সজোরে গিয়ে বল লাগছে।
১৫ বছর বয়সে মায়াঙ্ককে তাঁর বাবা নিয়ে যান তারক সিনহার কাছে। যিনি গড়ে-পিটে বানিয়েছিলেন বহু ক্রিকেটারকে। মায়াঙ্ককেও তিনি তৈরি করেছিলেন। তাঁর বাবা প্রভু যাদব প্রয়াত কোচ তারক সিনহা ও সনেট ক্লাবের বর্তমান হেড কোচ দেবেন্দ্র শর্মাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মায়াঙ্ককে সমস্ত লড়াইয়ের জন্য তৈরি করেছেন বলে। ২০২৩ সালে মায়াঙ্ক দু’বার কোচ দেবেন্দ্রকে ফোন করে জানিয়েছিলেন তাঁর আইপিএল অভিষেক হবে। তিনি যেন অবশ্যই খেলা দেখেন। কিন্তু গত মরসুমে মায়াঙ্কের অভিষেক হয়নি। এ বার হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাত্র ২টি ম্যাচ খেলেই রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন দিল্লির বছর একুশের ছেলে।
সনেট ক্লাবে একবার যে পা রাখে তাঁর প্রতিভা থাকলে সুবিচায় পান। মায়াঙ্ক যখন সনেট ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন তখন ভীষণ দূর্বল ছিলেন। সেখানকার কোচ দেবেন্দ্র জানান, তাঁরা কোনও ক্রিকেটারের মধ্যে খেলার তাগিদ ও প্রতিভা দেখতে পেলে সব রকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। দেবেন্দ্র বলেন, ‘ওকে দেখে এখনও দূর্বল মনে হতে পারে। কিন্তু ও এখন সঠিক খাদ্যাভাসের ফলে শক্তিশালি। সঙ্গে রয়েছে ফিটনেস মেনে চলা। ও একজন নিরামিশভোজী। এবং ও ভগবান কৃষ্ণকে মেনে চলে।’
লখনউ শিবিরে ২০২২ সাল থেকে রয়েছেন মায়াঙ্ক। অবশেষে এ বার তাঁর অভিষেক হয়েছে। মায়াঙ্ক এ বারের আইপিএলে গতির ঝড় তুলে সকলকে চমকে দিয়েছে। পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক আইপিএল ম্যাচে সবচেয়ে দ্রুতগতির বল ছিল ১৫৫.৮ কিমি/ঘণ্টা। আরসিবির বিরুদ্ধে নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন মায়াঙ্ক। চলতি মরসুমের সবচেয়ে দ্রুতগতির (আরসিবির বিরুদ্ধে ১৫৬ কিমি/ঘণ্টা) বল তাঁরই করা।