Mangesh Yadav : বাবা ট্রাক চালান, ছেলেকে ৫ কোটি টাকায় কিনে নিল আরসিবি!

দিল্লিতে ওয়ান্ডার ক্রিকেট ক্লাবের কোচ ফুলচাঁদ শর্মা মঙ্গেশের বোলিং দেখে তাঁকে নিজের হোটেলে রাখেন। সেখান থেকেই উত্থান শুরু মধ্যপ্রদেশের যুবার। ফুলচাঁদ না থাকলে তো পেশাদার ক্রিকেটার হওয়াই হয়ে ওঠে না তাঁর। এরপর থেকেই যেন ভাগ্যের চাকা ধীরে ধীরে ঘোরা শুরু হয়ে মঙ্গেশের।

Mangesh Yadav : বাবা ট্রাক চালান, ছেলেকে ৫ কোটি টাকায় কিনে নিল আরসিবি!
Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Mar 26, 2026 | 4:28 PM

কলকাতা : রূপকথার গল্প তো একসময় সবাই শুনেছে। কেউ কেউ হয়ত বিশ্বাসও করেছে। কিন্তু এর আগে কতবার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে ? কতবার কোনও অনামী পরীর জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় ভাগ্য বদলে গিয়েছে গরিব মানুষের? উল্টোটাই বরং দেখা যায়, যেখানে গরিবের সঙ্গে প্রতারণা করে তাঁদের শেষ সম্বলটুকু ছিনিয়ে নেয় কিছু স্বার্থপর অমানুষ। তবে মধ্যপ্রদেশের মঙ্গেশ যাদব হয়ত বিশ্বাস করতেন কোনও একদিন তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার স্বপ্নের উড়ান নেবে। অবশেষে তাঁর স্বপ্ন সফল হল। বহু প্রতীক্ষার পর তাঁর কপাল খুলল এই আইপিএলে।

মধ্যপ্রদেশের গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা মঙ্গেশকে এই বছর আইপিএলে বিরাট কোহলির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কিনেছে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। তাঁর বাবা রামঅবধ যাদব পেশায় একজন ট্রাকচালক। পরিবারের মুখে অন্ন জোটাতে রাত ৩টে নাগাদ ঘুম থেকে উঠে বিপজ্জনক রাস্তায় গাড়ি চালিয়েছেন তিনি। ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে পরিবারকে। ঋণের বোঝা কাঁধে চেপে গিয়েছিল মঙ্গেশের বাবার। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন,“টাকার জন্য আমাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। একজন ট্রাকচালকের জীবন আসলে কোনও জীবনই নয়।” আজ ছেলের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার চুক্তি যেন সেই দুশ্চিন্তার কালো মেঘ সরিয়ে দিয়েছে। কপাল ভাল হলে আগামী শনিবার প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেন মধ্যপ্রদেশের এই যুবক। কারণ, ব্যক্তিগত কারণে এই বছর আইপিএলে নেই যশ দয়াল। কিন্তু তিনি, মঙ্গেশ, টিভিতে নিজের এত দাম দেখে কি ভাবছিলেন ? “আমি টিভিতে আইপিএলের নিলাম দেখছিলাম। একসময় দেখি আমার দর ৫ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে । তখনই আমি বারবার চাইছিলাম হায়দ্রাবাদ যেন আমার জন্য আর না ঝাঁপায়। আমি আরসিবিতে খেলতে চেয়েছিলাম। অবশেষে সেটাই হচ্ছে।” অকপট স্বীকারোক্তি মঙ্গেশের। তাঁর কথায়,”এক আত্মীয়ের সঙ্গে দিল্লি আসি আমি। সেই সময় বাবা আমাকে ২৪ হাজার টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু খুব জলদিই সেই টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল।”

দিল্লিতে ওয়ান্ডার ক্রিকেট ক্লাবের কোচ ফুলচাঁদ শর্মা মঙ্গেশের বোলিং দেখে তাঁকে নিজের হোটেলে রাখেন। সেখান থেকেই উত্থান শুরু মধ্যপ্রদেশের যুবার। ফুলচাঁদ না থাকলে তো পেশাদার ক্রিকেটার হওয়াই হয়ে ওঠে না তাঁর। এরপর থেকেই যেন ভাগ্যের চাকা ধীরে ধীরে ঘোরা শুরু হয়ে মঙ্গেশের। তাঁর কথা বলার সময় খুশিতে চোখ চিকচিক করছিল ফুলচাঁদেরও। “আমি দেখেছিলাম ওর বোলিং ভাল কিন্তু ওর টাকা নেই। আমি তখন ওকে আমার সঙ্গে নিয়ে এসে হোস্টেলে থাকতে বলি। যদি কোনও বোলার ভাল হয়, তাহলে তার টাকা আছে কি নেই, সেটা আমার কাছে বড় কথা নয়।” ২০২৫ সালের মধ্যপ্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে ভাল পারফরম্যান্সের পর তিনি আরসিবির হয়ে ট্রায়ালে যোগ দেন। সেখানেই নজরে পড়ে যান দীনেশ কার্তিকের। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে মঙ্গেশের উত্তর,“আমাকে ডিকে স্যার মোট ১২টা বল করিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বল করার পরীক্ষা নেন। পাওয়ার প্লে, মিডল ওভার এমনকি ১৮ ও ২০তম ওভার বল করার পরীক্ষা দিচ্ছিলাম আমি। ডিকে স্যারের থেকে যা যা পরামর্শ পেয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। এরপরেই অকশনের দিন আমি জানতে পারি আরসিবি আমাকে নেওয়ার জন্য ঝাঁপাবে। এমনকি অধিনায়ক রজতভাই (পাতিদার) আমাকে আস্বস্ত করেছিলেন।”

একসময় টাকার অভাবে পরের দিনের অন্ন সংস্থানের চিন্তা করা থেকে শুরু করে আইপিএলে ৫ কোটি ২০ লক্ষ দর পাওয়া – মঙ্গেশের জীবন যেন কয়েক বছরের মধ্যেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। ছেলের আকাশছোঁয়া সাফল্যে আবেগপ্রবণ বাবা-মা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন আরসিবি এই বছরেও ট্রফি ধরে রাখতে মরিয়া। যশের বদলে যোগ দেওয়া মঙ্গেশই আরসিবির তুরুপের তাস, মনে করছে ক্রিকেটমহল। এখন দেখার বিষয়, মধ্যপ্রদেশের এই তরুণ তুর্কি আইপিএলে কতটা নিজের প্রভাব ফেলতে পারেন।

Follow Us