
কখনও ফ্রন্ট ক্যামেরা, কখনও ব্যাক। সমর্থকরা তখনও মাঠ ছাড়েননি। ভিডিয়ো কলে কথা শুনতে সমস্যা হচ্ছিল। ফোনটাকে কানের কাছে রেখে কিছু শুনে আবার মুখের সামনে ধরলেন। কখনও বাচ্চাদের মতো অঙ্গভঙ্গী করলেন। দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, কার সঙ্গে বা কাদের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলছেন বিরাট কোহলি। উত্তর দেওয়ার জন্য কোনও পুরস্কার নেই। একঝাঁক পুরস্কার তো জিতেই নিয়েছেন বিরাট কোহলি। কিন্তু সমর্থকদের ভুলে গিয়েছিলেন! কী ভাবে সম্ভব?
ম্যাচে বিরাট কোহলি যেন সর্বত্র। ফিল্ডিংয়ে তাঁর এনার্জি বরাবরই বাকিদের কাছে উদাহরণ। পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে যেন বাড়তি এনার্জি ছিল। বেঙ্গালুরুতে ম্যাচ। আর এই শহরের সঙ্গে বিরাটের সম্পর্ক কারও অজানা নয়। পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ৪৯ বলে ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন বিরাট। জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন তিনিই।
একঝাঁক পুরস্কার। বিরাট কোহলির নাম যতবার ডাকা হল, গ্যালারি ততই উচ্ছ্বাসে ভাসল। বিরাটকে ‘বিশ্রাম’ দিতে সঞ্চালক হর্ষ ভোগলে ডেকে নেন উইনিং ক্যাপ্টেন ফাফ ডুপ্লেসিকে। গ্যালারি অপেক্ষায় বিরাটের। পরবর্তী পুরস্কারের জন্য নাম উচ্চারণ করতে হল না। গ্যালারির চিৎকারই বলে দিচ্ছিল। হর্ষ ভোগলে বলেন, ‘আমি তোমাকে কিছু দিচ্ছি, এই সুযোগ খুব বেশি আসে না।’ বলেই বিরাটের হাতে অরেঞ্জ ক্যাপ তুলে দেন। সমর্থকদের উদ্দেশে বিরাট বলেন, ‘বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ো না, সবে দুটো ম্যাচ হয়েছে।’
বেঙ্গালুরু, সম্পর্ক এবং বিরাট কোহলি। গত দু-মাস এর বাইরে কেটেছে বিরাট কোহলির। দেশের বাইরে ছিলেন বিরাট। আইপিএলের আগেই ফিরেছেন। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে খেলেননি। এর মাঝেই খুশির খবর দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হয়েছেন বিরাট। বেঙ্গালুরুর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিরাট বলেন, ‘এত বছর ধরে খেলছি, ভালোবাসা এবং আমার উপর সমর্থকদের ভরসা এটা তৈরি হয়ে গিয়েছে।’
প্রশ্ন উঠতেই পারে, তা হলে কেন বলা হচ্ছে, বিরাট কোহলি সমর্থকদের ভুলে গিয়েছিলেন! তিনি নিজেই এমনটা বলেছেন। সঞ্চালক হর্ষ ভোগলে বিরাটকে প্রশ্ন করেন, তোমার সন্তানদের এখনও বোঝার বয়স হয়নি যে ওদের বাবা কী করে, এই দুটো মাস তুমি কেমন কাটালে? বিরাট বলেন, ‘একটা নরমাল লাইফ, পরিবারের সঙ্গ কাটানোর সময় পেয়েছি। দেশে ছিলাম না। যেখানে ছিলাম, আমাকে এত কেউ চেনে না। সবাই এক সঙ্গে থাকতে পারা, দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। এই সুযোগটা পাওয়ার জন্য ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ। এখানে ফেরার পর হঠাৎ এত চিৎকারে ভুলেই গিয়েছিলাম, যে আমাকে দেশে কতটা ভালোবাসা হয়। প্রথম দিকে বুঝেই উঠতে পারছিলাম না, আমাকে নিয়ে কেন এত মাতামাতি হচ্ছে! পরিবারের সঙ্গে কাটানোর ব্যাপারটাই আলাদা।’