
ইস্টবেঙ্গল – ৭ (ডেভিড হ্যাটট্রিক, ক্রিস, রোহিত কুমার, লোবো, জলিনস্কি) : নর্থইস্ট – ২ (আলাদিন ২ )
কলকাতা : বহু বছর আগে বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭ গোল খেয়েছিল ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফল হয়েছিল ৭-১। এবার কলকাতা ফুটবলেও একই দৃশ্য। আইএফএ শিল্ড সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ ফলে হারাল ইস্টবেঙ্গল। এরফলে তারা জায়গা করে নিল আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে। ফাইনালে ডেভিডদের মুখোমুখি হবে মোহনবাগান সুপারজায়েন্ট। অর্থাৎ, ডুরান্ড কাপের ফাইনালের মতো আইএফএ শিল্ডের ফাইনালও ডার্বিই হবে।
আইএফএ শিল্ডে গ্ৰুপে অপরাজিত ছিল হাইল্যান্ডার্সরা। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ শুরু করে নর্থইস্ট। জিভুলিচের ভুলে বল পেয়ে যান নর্থইস্টের আলাদিন আজারাই। সেখান থেকে গোলকিপার লাচেঙপাকে পরাস্ত করে গোল করতে কোনও ভুল করেননি তিনি। ম্যাচের ২ মিনিটের মাথাতেই নর্থইস্ট এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। এর ৯ মিনিটের মাথায় ডেভিডের গোলে কামব্যাক করে ইস্টবেঙ্গল। ২৩ মিনিটের মাথায় আবার গোল করে ইস্টবেঙ্গল। দানি রামিরেজের বাড়ানো বলে পা ছুইঁয়ে গোল করে যান রোহিত কুমার। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে আবার গোল পায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। বিষ্ণু বল বাড়ান ইকোনোমেডিসকে। তিনি গোল করে ৩-১ এগিয়ে দেন মশাল বাহিনীকে। প্রথমার্ধে দুরন্ত খেলেছেন বিষ্ণু ও ডেভিড। তাঁদের যুগলবন্দী নজর কাড়ে বারবার। দানি রামিরেজ, ইকোনোমেডিসরাও বারবার আক্রমণ শুরু করেন ও যা আঘাত হানে নর্থইস্ট ডিফেন্সে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল ডেভিডের। উইং থেকে আসা বিষ্ণুর বাড়ানো বল থেকে বল করেন ডেভিড। ৫৫ মিনিটের মাথায় নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর হালকা চিপেই ৫ গোল করে ফেলে লাল-হলুদ। এরপর থেকে দুই দলই গোলের চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে ৮৩ মিনিটের মাথায় গোল পায় হাইল্যান্ডার্সরা। রাবির ক্রস হেডে লাগার ফলে থৈবা শট মারেন ও তা আটকে দেন লাল-হলুদ গোলকিপার। সেখান থেকেই কোনও মতে হেডে গোল করেন আলাদিন। এর মিনিট দুয়েকের মাথায় হাফ ভলিতে গোল করলেন ইস্টবেঙ্গলের একে লোবা। আজ লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেক হল তাঁর। ৯০+১ মিনিটে আবার গোল করে ইস্টবেঙ্গল। এবার গোল করলেন অভিষেক করা ফুটবলার জলিনস্কি। নর্থইস্ট ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে দলের সপ্তম গোল করে গেলেন তিনি। শেষ অবধি ৭-২ ফলে জিতল ইস্টবেঙ্গল।
গতকাল প্রথম সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ফলে হারিয়েছিল মোহনবাগান। আজ লাল-হলুদের সেভেন ষ্টার পারফরম্যান্স। কিন্তু এখানে ফেভারিট ইস্টবেঙ্গলই। কারণ, মোহনবাগানের সব ভাল হলেও ফিনিশিং কিন্তু সমস্যা বাড়াচ্ছে। সেখানে এই ইস্টবেঙ্গলকে রোখা যাচ্ছে না। আগামী ৮ অক্টোবর, যুবভারতী স্টেডিয়ামে শিল্ড ফাইনাল। সেই ম্যাচও কি ডুরান্ড ফাইনালের মতো একতরফা হবে? নাকি পাল্টা ঝড় তুলে মশাল নেভাবে মোহনবাগান? উত্তর পাওয়া যাবে ৮ তারিখ।