ISL 2026, Mohunbagan : আগামীকালই শেষ ম্যাচ, দিমিকে ঘিরে আবেগপ্রবণ মোহনজনতা!

Dimitri Petratos: ফুটবলারদের প্রতি এই ভালবাসা তো কম দেখেনি ময়দান। কৃশানু-বিকাশ, চিমা, স্নেহের 'বাবলু', ব্যারেটো, ওডাফা ওকোলি, সনি নর্ডি, কাতসুমি উসা - অতীতে বহু খেলোয়াড় এসেছেন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে। তাঁরা যেমন দলকে হাসিয়েছেন, তেমনই তাঁদের ব্যর্থতায় কেঁদেছে ময়দান। শুধু যাদের নাম উল্লেখ করলাম, তাঁরা ছাড়াও বহু এমন নাম আছে. যারা উল্কার মতো এসেও ঝড়ের গতিতে বিদায় নিয়েছেন।

ISL 2026, Mohunbagan : আগামীকালই শেষ ম্যাচ, দিমিকে ঘিরে আবেগপ্রবণ মোহনজনতা!
Emotional Fans Bid Farewell to Their 'Dimi God'.Image Credit source: ISL

| Edited By: Moumita Das

May 20, 2026 | 7:53 PM

কলকাতায় : “হাম, রহে না রহে কাল/কাল ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পল/পল, ইয়ে হ্যায় প্যার কে পল” – বহুল পরিচিত এই বলিউড গানের সঙ্গে কোথাও যেন মিলে গেল কলকাতা ময়দান। মোহনবাগান ছাড়তে চলেছেন বাগান সমর্থকদের নয়নের মণি দিমিত্রি পেত্রাতোস। গতকালই সমাজমাধ্যমে ছবি দিয়ে লিখেছিলেন ‘দ্য লাস্ট ডান্স’।এবার আজ তাঁকে ঘিরেই দেখা গেল সেই পরিচিত উন্মাদনার ছবি।

আগামীকালের ম্যাচ যেন আক্ষরিক অর্থেই ‘বড় ম্যাচ’। একদিকে কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে নামবে ইস্টবেঙ্গল, তেমনই মোহনবাগান যুবভারতী স্টেডিয়ামে নামবে দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে (কমপক্ষে ৭-০) জিততে হবে দিমিত্রিদের। সেই নিয়েই আজ প্রেস কনফারেন্স দিমি বললেন,”ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব। আমরা পজিটিভ। কাল আমরা নিজেদের সেরাটা দেব। সবকিছু উজাড় করতেও রাজি আমরা। অতীত নিয়ে ভাবছি না আমরা।”

এরপরেই আজ প্র্যাকটিস সেরে বেরোতেই একঝাঁক সবুজ মেরুন সমর্থক ঘিরে ধরেন দিমিকে। কেউ কেউ পায়েও পড়ে যান তাঁর। সবার মুখেই এক কথা,”আপনি যাবেন না।” দিমি মুখে কিছু না বলে স্রেফ হাসলেও তাঁর মুখ বলে দিচ্ছিল, তিনি নিজেও খুব একটা স্বতঃস্ফূর্ত নেই। অনেকে ফুলের তোড়া নিয়েও দিচ্ছিলেন নিজেদের পছন্দের ‘দিমিগড’কে। কিন্তু দিমি গাড়িতে উঠলেন, তাঁকে ঘিরে উঠল সেই বহুল পরিচিত ‘দিমি দিমি’ স্লোগান। শেষবার মোহনবাগানের প্র্যাকটিস সেরে মাঠ ছাড়লেন দিমিত্রি। গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেন বাগান সমর্থকদের ‘ভগবান’। আর ফিরবেন না হয়ত। তাই কি তাঁকে নিয়ে এত আবেগ, এত কাকুতি, একবার ছুঁয়ে দেখার এত প্রচেষ্টা? কে জানে! এখনও যে একটা ম্যাচ বাকি রয়েছে। সেই ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে কি সমস্ত নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন তিনি?

ফুটবলারদের প্রতি এই ভালবাসা তো কম দেখেনি ময়দান। কৃশানু-বিকাশ, চিমা, স্নেহের ‘বাবলু’, ব্যারেটো, ওডাফা ওকোলি, সনি নর্ডি, কাতসুমি উসা – অতীতে বহু খেলোয়াড় এসেছেন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে। তাঁরা যেমন দলকে হাসিয়েছেন, তেমনই তাঁদের ব্যর্থতায় কেঁদেছে ময়দান। শুধু যাদের নাম উল্লেখ করলাম, তাঁরা ছাড়াও বহু এমন নাম আছে. যারা উল্কার মতো এসেও ঝড়ের গতিতে বিদায় নিয়েছেন। দিমিও বাগানকে কম সাফল্য দেননি। ডার্বিতে লাল-হলুদের বিরুদ্ধে ৫ খানা গোল রয়েছে তাঁর। তবুও ভাগ্যের কি পরিহাস ভাবুন, দেড় মরসুম আগে বাগান খেলোয়াড়রা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইরানে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার ফলে এই দিমি-সহ বাগানের দলকেই সমালোচনা করেছিলেন সমর্থকরা। দেওয়া হয়েছিল ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। সেখান থেকে আগামীকাল। আর বাকি মাত্র এক ম্যাচ। তারপরেই সম্ভবত থাকবেন না দিমিত্রি। আর কোনও ৯ নম্বরের জার্সিধারী শেষ মুহূর্তে গোল করে গ্যালারিকে ‘স্টেনগান’ সেলিব্রেশন করে মাতাবেন না। আর কোনও দিমি বলবেন না,“ইস্টবেঙ্গল ব্ল্যাঙ্ক চেক দিলেও ফিরিয়ে দেব।” আর কোনও দিমি কি কাদাপাড়ার মাঠে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলবেন? জানি না। বরং জানা আছে, ‘গল্প হলেও সত্যি’ সিনেমায় রবি ঘোষ অভিনীত চরিত্র ধনঞ্জয়ের একটি ডায়লগ।

– তুমি আর ফিরবে না ?

– আমার আর ফেরার প্রয়োজনই হবে না।

Follow Us